যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও আরো ১২টি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে এ সভা হয়। এতে আপৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন। এসব জরুরি পণ্যের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধ অন্যতম। খবর কিয়োদো এজেন্সি।

গত বছরের মে মাসে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক’ (আইপিইএফ) নামে যুক্তরাষ্ট্র একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সভার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উদ্যোগটির একটি ফল বেরিয়ে এল। আশা করা হচ্ছে, চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে। এতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান দখল খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ইয়াসুতোশি নিশিমুরা। তিনি বলেন, ‘পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে বহুপক্ষীয় চুক্তিগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম।’

আইপিইএফের সদস্য দেশগুলো একটি পদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। পণ্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো তারা একসঙ্গে চিহ্নিত করবে। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র নিজেদের সংকটপূর্ণ খাতগুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে এবং প্রতিনিয়ত সেগুলোর অগ্রগতি যাচাই করবে। বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে আরো জানা যায়, সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করাটা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে তারা পারস্পরিক সমঝোতা ও সাড়াদানের প্রক্রিয়াগুলো আরো উন্নত করবে।

প্রয়োজনীয় পণ্য কোনগুলো, এ বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। তবে জাপানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জরুরি পণ্যের মধ্যে খনিজ পদার্থ, সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া যেসব পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেসব পণ্য ও যন্ত্রাদিও এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

কভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের ফলে খাবার, জ্বালানি ও প্রধান শিল্পপণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বের জায়গায় উঠে এসেছে। সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা আইপিইএফের চারটি মূলনীতির অন্যতম। অন্য তিনটি হলো বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং যথাযথ করারোপ ও দুর্নীতি দমন।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ক্ষেত্রে আইপিইএফের সদস্য দেশগুলো হাইড্রোজেনভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারকে উৎসাহিত করার একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ নেবে। হাইড্রোজেন জ্বালানি নবায়নযোগ্য এবং এতে কার্বনের পরিমাণ একেবারেই কম।

তবে এ বৈঠকে ট্যারিফ বাদ দেয়া ও কোনো দেশের বাজারে প্রবেশের শর্তাবলি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়নি। এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো নভেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোতে আলোচনায় বসবে। সে আলোচনা সভায় ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন’ ফোরামের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

গত বছর জাপান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইপিইএফের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি পুনরায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হলো। ২০১৭ সালে ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল। 

বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশ আইপিইএফের সদস্য দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এর বর্তমান সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ফিজি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালেয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।