খুচরা ব্যবসায় সংঘটিত অপরাধকে শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোম্পানিগুলো। কিন্তু কোম্পানিগুলোয় আয় কমিয়ে আনার পেছনে প্রতিদিন সূচক আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কোম্পানিগুলোর অভিযোগ, পণ্য চুরির ঘটনা তাদের সার্বিক আয়কে মারাত্মক প্রভাবিত করছে। প্রভাব ফেলছে মূল্যনির্ধারণ, হিসাব জটিলতা ও বিনিয়োগকারীদের মানসিকতার ওপর। সম্প্রতি ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান খুচরা পণ্য চুরির ঘটনায় পূর্বাভাস জটিলতা ও আয় সংকোচনের অভিযোগ জানিয়েছে। খবর সিএনবিসি।

খুচরা পণ্যের ব্যবসায় অপরাধ প্রবণতার ব্যাপারে জানিয়েছে টার্গেট, ডলার জেনারেল, ফুট লকার ও আলটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের অনেকেই মনে করে সংঘবদ্ধ চুরি ও অপরাধপ্রবণতা খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা, যার বড় অংশই তাদের নাগালের বাইরে। কিছু ব্যবসায়ী বিশেষ ছাড় ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, যেখানে কেউ কেউ তাদের আয়সীমা কমিয়েই হিসাব করেন।

সংঘবদ্ধ চুরির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, কোনো ব্যবসায়ী যদি চুরির অভিযোগ উত্থাপন করেন, কোম্পানির জন্য তা সত্যায়ন করা প্রায় অসম্ভব। চুরি যাওয়া পণ্যের লোকসান প্রকাশ করে না। এটা পরিমাপ করাও সহজসাধ্য নয়। এক্ষেত্রে কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা কেবল মুখের কথার ওপরেই বিশ্বাস করে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিই গুরুত্বপূর্ণ।

খুচরা পণ্যের শিল্পে সংকোচন অনেক কারণেই আসতে পারে। তার মধ্যে দোকান থেকে না বলে চুরি কিংবা ভাংচুরও পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাছাড়া কর্মচারী নিজেই চুরি করতে পারে, হিসাবনিকাশে ভুল হতে পারে, পরিবহন ও স্থানান্তরগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টিতে কোম্পানির চেয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রায় সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোয় সংগঠিত চুরির ব্যাপার জানিয়ে আসছেন। যদিও তারা সম্পূর্ণ লোকসানের কথা প্রকাশ করেননি। যদিও কোটি ডলারের কোম্পানিগুলোর হিসাব সাধারণত প্রজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ হয়। ছাড়, প্রচারণা, ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে কেবল মোটাদাগে বিক্রয় খরচ হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে পৃথকভাবে খুচরা ব্যবসায় চুরির বিষয়টি ঢাকা পড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফেডারেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০২০ সালে লোকসান বেড়েছে ৯ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার ও ২০২১ সালে ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলার। ২০২১ সালে লোকসানের ৩৭ শতাংশ এসেছে কেবল চুরির কারণে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো উপাত্ত পাওয়া যায়নি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কারখানা কার্যক্রম সংকোচনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে গড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করে দেখা যায়, ১ দশমিক ৪ শতাংশ লোকসানের এ মূল্যমান ৯ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। 

তবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে খুচরা বিক্রয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। এফবিআইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৫-২০২০ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি চুরির ঘটনা কমে যাচ্ছে। তবে সে ঘটনাগুলো দোকানের চেয়ে ঘরেই বেশি ঘটেছে। দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনা অধিকাংশ সময়েই রিপোর্ট করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্য, প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র হারিয়ে যায়। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক কোহেন দাবি করেছেন, ‘‌রেজিস্ট্রার করা হয়, শেলফে রাখা পণ্যের হিসাবও রাখা হয়। ফলে যখন সমস্যা ঘটে, তখন সহজেই আন্দাজ করা যেতে পারে চুরির সম্পর্কে।’

খুচরা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান টার্গেটের চলতি বছরে সংকোচন হয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে ছিল ৭৬ কোটি ৩০ লাখ। টার্গেটের দাবি সংঘবদ্ধ চুরি খুচরা ব্যবসা খাতে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি, যা উৎপাদন খরচকেই বাড়িয়ে তুলছে, যা ক্রমেই আরো ঘনীভূত হচ্ছে। ২০২৩ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এ ধরনের ঘটনা ১২০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি কোম্পানিটির। ক্রমে লোকসানের অন্যসব খাতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এটি। ফলে কোম্পানি লাভসীমা ধরে রাখার জন্য মূল্যনির্ধারণে বদল আনছেন। পিছিয়ে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।