সপ্তাহব্যাপী অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকাল কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বাজারে ইরানের তেল সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের দরে নিম্নমুখী অবস্থান তৈরি হয়। এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফলে জ্বালানি পণ্যটির দামে এর প্রভাব পড়ে। খবর রয়টার্স।

গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৫ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ কমে আসে। লন্ডন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৯২ ডলার ৩২ সেন্ট, যা পূর্ববর্তী সেশনের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য কমে আসে ৭১ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৯১ ডলার ০৫ সেন্ট। পূর্ববর্তী সেশনে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে আসে।

সোমবার উভয় বাজার আদর্শ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর তাদের সর্বোচ্চ সূচক স্পর্শ করে। তবে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি নতুন মাত্রা পাওয়ার আশায় নয় সপ্তাহে প্রথমবারের মতো নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় জ্বালানি পণ্যটির আন্তর্জাতিক দর।

কূটনীতিবিদরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চুক্তির যে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে দেশটির ওপর তেলসংক্রান্ত অবরোধ সহজ করা হতে পারে। ফলে বাজারে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়বে। তকে ঠিক কবে নাগাদ এ সরবরাহ নিশ্চিত হবে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তেলের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ভান্দানা হারি বলেন, ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর আলোচনার ফলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে নিম্নমুখী দর স্থায়িত্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সর্বশেষ আলোচনার যে সম্ভাবনা, তা যদি উভয় পক্ষ বাতিল করে দেয়, তাহলে এর বিপরীত চিত্র দেখা দিতে পারে।

তবে নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম খুব বেশি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এমনিক ওপেক প্লাসের সরবরাহের পাশপাশি বাজারে ইরানের অতিরিক্ত তেল সরবরাহ পরিস্থিতিও এ দৃশ্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করছেন তারা।

কমনওয়েলথ ব্যাংকের বিশ্লেষক বিবেক ধর বলেন, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ সাত বছরের সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করেছে। এ অবস্থায় ওপেক প্লাসের সরবরাহ বৃদ্ধির হতাশাজনক দৃশ্যের ফলে সংগঠনটির অতিরিক্ত উত্তোলন সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তেলের বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে।