জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে পুরো বিশ্ব। কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। নবায়নযোগ্য ও নিরাপদ জ্বালানিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। চলতি বছর এ খাতে ব্যয় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এ কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সামগ্রিক ব্যয় জীবাশ্ম জ্বালানি খাতকে ছাড়িয়ে যাবে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
২০২৩ সালে বিশ্বের জ্বালানি খাতে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৬০ শতাংশই নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যয় হবে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, নিউক্লিয়ার পাওয়ার ও হিট পাম্প রয়েছে। ওয়ার্ল্ড এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে বাকি ৪০ শতাংশ ব্যয় হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত এগোচ্ছে। এর গতি এতই বেশি যে তা সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরে। বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তনের চিহ্ন পরিষ্কার। জীবাশ্ম থেকে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে।’
বিরোল বলেন, ‘আগে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ১ ডলার ব্যয় করা হলেও বর্তমানে ১ দশমিক ৭০ ডলার পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে যাচ্ছে। পাঁচ বছর আগে এর অনুপাত এক-এক ছিল।’
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২৩ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ২৪ শতাংশ বাড়বে। যার মধ্যে নবায়নযোগ্য ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ বাড়বে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি উন্নত অর্থনীতি ও চীন কেন্দ্রিক।
প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশকিছু কারণে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানির বাজার ও দামে অস্থিরতা প্রভাব ফেলেছে। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি খাতে নিরাপত্তার বিষয়টি মুখ্য হয়ে ওঠে। অন্যদিকে আপস্ট্রিম জ্বালানি তেল ও গ্যাসে ব্যয় ৭ শতাংশ বেড়ে কভিড-১৯ মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিলে আসবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ভালো মুনাফাও লাভ করেছে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অধিকাংশ উৎপাদনকারী পুনরায় বিনিয়োগের পরিবর্তে লভ্যাংশ দেয়া, শেয়ার কেনা ও ঋণ পরিশোধে এ অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব জ্বালানি তেল কোম্পানি কভিড-১৯ মহামারীর আগে থেকে বড় পরিসরে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে তাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের। ২০৫০ সাল নাগাদ শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিতে ২০৩০ সালের মধ্যে যে হার নির্ধারণ করা হয়েছিল চলতি বছর জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ তার দ্বিগুণ বাড়বে। অন্যদিকে কয়লা খাতেও চলতি বছর ছয় গুণ বেশি বিনিয়োগ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের মধ্যে জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ চার গুণ বাড়িয়ে ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে।










