মিসর আগামী সপ্তাহে নতুন কর প্যাকেজ চালু করবে। অনেক পণ্য ও সেবার ওপর এর প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে বিনোদন, বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসবহুল খাবার ও অবকাশযাপন অন্তর্ভুক্ত। খবর দ্য ন্যাশনাল।
সরকার প্রস্তাবিত এ কর প্রস্তাব গত সপ্তাহের শেষে সংসদের বাজেট ও পরিকল্পনা কমিটি গ্রহণ করে। রোববার দেশটির সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রাথমিকভাবে তা অনুমোদন পায়। এ সপ্তাহের শেষে চূড়ান্ত ভোট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে নতুন করারোপসংক্রান্ত বিলটি আইনে পরিণত হওয়া কেবল সময়ের দাবি। কারণ সংসদে সরকারের সমর্থকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটির তারল্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য দেশটির সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে মিসরের পাউন্ড প্রায় অর্ধেক মূল্য হারিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। ফলে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণে আমদানি পণ্যনির্ভর দেশীয় শিল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মিসর বিশ্বের অন্যতম ঋণগ্রস্ত দেশ। এর মোট ঋণের পরিমাণ অন্তত ১৬ হাজার কোটি ডলার। ফলে মিসরের অর্থনীতি চরম অনিশ্চয়তায় ডুবে গেছে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো দেশটির ঋণ নেয়ার সামর্থ্যের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে।
মিসরের অর্থনীতিতে সরকার ও সেনাবাহিনী ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। গত বছরের শেষের দিকে আইএমএফ দেশটিকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। তবে শর্ত ছিল, অর্থনীতিতে সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রভাব কমিয়ে বেসরকারি খাতকে বড় ভূমিকা পালন করার সুযোগ দিতে হবে। মিসর সরকার এ শর্ত পালন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
নতুনভাবে করারোপ থেকে প্রতি বছর ৫০০ কোটি ডলার সরকারি কোষাগারে জমা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, বিদেশ ভ্রমণের সময় ১০০ মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৩ দশমিক ৩ ডলার) কর হিসেবে দিতে হবে। শুল্কমুক্ত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫০ ডলার বা তার বেশি দামের পণ্য কিনলে ৩ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়র ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। কোমল পানীয়র ক্ষেত্রে করের পরিমাণ হবে ৫ শতাংশ। তাছাড়া চিংড়ি, ক্যাভিয়ার, তাজা কিংবা প্রক্রিয়াজাত ফল, চকোলেট ইত্যাদি বিলাসবহুল খাবারের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করা হবে।










