বৈশ্বিক পর্যটন খাতের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি মহামারীর আগের অবস্থায় ফিরতে যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর ভ্রমণ ও পর্যটন খাত ২০১৯ সালের সর্বোচ্চ স্তরের প্রায় কাছাকাছি। সংস্থাটি বলছে, এ বছর খাতটির ৯৫ শতাংশের বেশি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর মহামারীপূর্ব স্তর ছাড়িয়ে যাবে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
বৈশ্বিক পর্যটন খাত বিশ্লেষক সংস্থা ডব্লিউটিটিসি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের প্রাক্কলন অনুসারে, পর্যটন খাতে চলতি বছরে খাতটির বৈশ্বিক আয় ৯৫ লক্ষ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে, ২০১৯ সালে মহামারীপূর্ব আয়ের চেয়ে যা মাত্র ৫ শতাংশ কম। বর্তমানে প্রায় ৩৪টি দেশ মহামারীপূর্ব পরিস্থিতিকেও অতিক্রম করে ফেলেছে। মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। ফলে খাতটিতে স্থায়ী পুনরুদ্ধার এখনো চলমান। গত বছর এতে আয়ের বছরওয়ারি বৃদ্ধি ছিল ২২ শতাংশ। আয়ের অংক দাঁড়িয়েছিল ৭৭ লক্ষ কোটি ডলারে, যা মোট বৈশ্বিক অর্থনীতির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল খাতের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অবদান।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে খাতটি থেকে বছরওয়ারি আয় বাড়ে ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ডব্লিউটিটিসির সিইও জুলিয়া সিম্পসন দাবি করেন, ‘বছরের শেষ দিকে এ খাতের আর্থিক অবদান ২০১৯ সালের কাছাকাছি থাকবে। ২০২৪ সালেই আমরা ২০১৯ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে অন্যতম বৈশ্বিক পর্যটন। শুধু ২০২০ সালেই খাতটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিক দিয়ে ১৩ লক্ষ কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দাবস্থার তুলনায়ও ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১১ গুণ বেশি। জাতিসংঘের বৈশ্বিক পর্যটন সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সাল ছিল আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সবচেয়ে নেতিবাচক বছর। ওই সময়ে বছরওয়ারি ৭৪ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে কিছু দেশ ক্রমে সীমান্ত খুলে দিতে শুরু করেছে। তুলে নিতে শুরু করেছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে ধীরে হলেও নতুনভাবে গতি পেয়েছে পর্যটন খাত। ডব্লিউটিটিসি গবেষণায় দেখা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও চীনের মতো দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সরাতে দীর্ঘসূত্রতা পর্যটন খাত পুনরুদ্ধার যাত্রাকে মন্থর করেছে। তবে চীনের সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই নিয়ে এসেছে স্ফীতি।
চলতি বছরেই পর্যটন খাত আরো গতি পাবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পর্যটকদের অংশগ্রহণ আবার বাড়তে শুরু করবে। তাছাড়া পর্যটনে বাড়ছে অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণও। আগামী ১০ বছর খাতটি বৈশ্বিক পরিসরে সবচেয়ে বর্ধনশীল খাতের একটিতে পরিণত হবে। মহামারীর কারণে এ খাত থেকে সাত কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছে ২০২০ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে ১ কোটি ১০ লাখ ও ২০২২ সালে ২ কোটি ১৬ লাখ কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার হয়। মহামারীর আগে কর্মসংস্থান ছিল ৩৩ কোটি ৪০ লাখ, বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩৩ সাল নাগাদ বৈশ্বিক পর্যটন খাতে আয় ১৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বৈশ্বিক জিডিপির ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে ৪৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে খাতটিতে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি শহর হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে দুবাই, দোহা ও লন্ডন।










