অর্থনৈতিক মন্দার জেরে বিপাক বেড়েই চলছে মার্কিন গ্রাহকদের। বাড়ছে ক্রেডিট কার্ড ও ঋণের বোঝা। বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে পেরে উঠতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অনেকেই। তার পরও ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান, ওয়েলস ফার্গো ও সিটি গ্রুপের লেনদেন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রায় ভালো ছিল। বিশেষ করে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে হাতে এসেছে বাড়তি মুদ্রা। তার পরও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা সতর্ক করে দিয়েছেন সবাইকে। তাদের ভাষায়, চলতি বছরে অর্থনৈতিক মন্দা দীর্ঘতর হতে ও গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ওয়েলস ফার্গোর প্রধান নির্বাহী মাইক সান্টোম্যাসিমো বলেছেন, ‘‌‌এক বছর আগে থেকেই আমরা লক্ষ করছি, গ্রাহকরা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন।’

কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে সম্ভাব্য ঋণের জন্য ১২০ কোটি ডলার সরিয়ে রেখেছে। সিটি গ্রুপও তাদের ক্রেডিট ঘাটতির জন্য বড় অংকের বরাদ্দ রেখেছে। ব্যাংকের ফাইন্যান্স প্রধান মার্ক ম্যাসন বলেন, ‘‌ঋণখেলাপি ও পরিশোধে বিলম্ব করার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। তবে এখনো তা ঝুঁকিপূর্ণ রূপ লাভ করেনি। আমরা নীতিমালাগুলো শক্ত করেছি। বিশেষ করে বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ২০২৪ সালের মধ্যে ঋণ পরিশোধে বিলম্বের হার ব্র্যান্ডেড কার্ডের জন্য ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পরিষেবার জন্য হার থাকবে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার বর্তমান হার ব্র্যান্ডেড কার্ডের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৮ শতাংশ ও খুচরা পরিষেবার জন্য ৪ শতাংশ।’ 

ব্যাংক অব আমেরিক ৯৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ রেখেছে। গত বছরের তুলনায় ৩ কোটি ডলার বেশি। যদিও চতুর্থ প্রান্তিকের চেয়ে কম। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে বরাদ্দ ছিল ১১০ কোটি ডলার। আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেশি হলেও এটি মহামারীপূর্ব বরাদ্দের পরিমাণ থেকে যথেষ্ট কম।