ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতির ধকলের মধ্যেই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে জাপান। ফেব্রুয়ারিতে ৮৯ হাজার ৭৭০ কোটি ইয়েন বা ৬৭০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির রেকর্ড ছুঁয়েছে দেশটি। রফতানি বৃদ্ধির ধীরগতির মধ্যে গতকাল দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। খবর কিয়োদো এজেন্সি। 

মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বছরওয়ারি জাপানের আমদানি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছে। বিপরীতে একই সময়ে রফতানি মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

মূলত ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় মূল্য হ্রাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে জাপানকে অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এক বছর আগের তুলনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তাছাড়া আমদানি নির্ভরশীল দেশ হওয়ায় টানা ১৯তম মাস ধরে জাপান এ সংকট পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।

জানুয়ারিতে রেকর্ড ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বাণিজ্য ঘাটতির পর অর্থনীতিবিদরা অবশ্য বলেছিলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। কারণ গত বছর বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির পর পণ্যের দাম স্থিতিশীল হয়। এছাড়া ইয়েনের দ্রুত অবমূল্যায়ন পরিস্থিতির কিছুটা উত্তরণও ঘটে। 

তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এক ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোয় একের পর এক আগ্রাসী সুদহার বৃদ্ধি, মার্কিন দুটি ব্যাংকের পতন পরিস্থিতি আর্থিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা রফতানি বৃদ্ধির বিষয়টি অনিশ্চিত বলেও যোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ চিসাতো ওশিবা বলেন, ‘চীন ও এশিয়ার দেশগুলোতেও রফতানি পরিস্থিতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। চন্দ্র নববর্ষের ছুটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রফতানি বৃদ্ধিও মন্থর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে চীনের নববর্ষের ছুটির সময় জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো রফতানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৫৩ হাজার ৫০ কোটি ডলার। তবে রফতানির তুলনায় আমদানির খানিকটা বৃদ্ধিসহ জাপানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে ২০ হাজার ৯৮০ কোটি ইয়েনের বাণিজ্য ঘাটতি নিবন্ধিত করে। এক বছর আগের তুলনায় আমদানি দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন হয়। বিপরীতে রফতানি আগের বছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে।

চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৩৯ হাজার ২৩ কোটি ইয়েন। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৭ কোটি ইয়েন।

এ সম্পর্কে চিসাতো ওশিবা বলেন, ‘কভিডবিষয়ক কঠোরতা তুলে নেয়ার পর চীনের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থার দিকে অগ্রসর হতে পারে। আমাদের আরো কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে। অন্যদিকে মার্কিন অর্থনীতি স্থিতিস্থাপক অবস্থায় রয়েছে, তবে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে আর্থিক কড়াকড়ি আরোপের কারণে আমরা সম্ভবত (নেতিবাচক) প্রভাব দেখতে পাব, যা জাপানের রফতানির জন্য নেতিবাচক হবে।’