সরবরাহ ঘাটতির প্রভাবে কয়েক বছরের মধ্যে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক বাজার আরো চড়া হয়ে উঠতে পারে। তবে ইস্পাতের দাম নিম্নমুখী থাকবে। খবর মাইনিং ডটকম।

২০২৭ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৪৯ লাখ টনে। ফলে ধাতুটির দাম চলতি বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৯ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছর গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৮ হাজার ২০০ ডলারে। 

বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমান বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ঝুঁকছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। বড় হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। এসব খাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে।

২০২৭ সাল নাগাদ চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯৮ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তবে এ সময় সরবরাহ ১০ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৪৪ লাখ টনে পৌঁছবে, যা চাহিদার চেয়ে কম।

বিশ্বজুড়ে তামার নতুন খনিগুলো নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে। নিম্ন গ্রেড, অনুমোদন পেতে কঠোর প্রক্রিয়া, পরিবেশবাদীদের আন্দোলন, সামাজিক ও সরকারি নানা ইস্যু এবং ঊর্ধ্বমুখী করের মতো বিষয়গুলো খনিগুলোয় উত্তোলন বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের ঘাটতি ১০ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৭ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এতে ২০২৭ সালের মধ্যে ধাতুটির দাম টনপ্রতি ৩ হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে। চলতি বছর গড় দাম থাকবে ২ হাজার ২০০ ডলারে। সে হিসাবে দাম বাড়বে ৩৬ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জ্বালানি স্থানান্তরসংক্রান্ত শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণ হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিডে সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সব খাতেই ধাতুটি প্রতিনিধিত্ব করছে।

২০২৭ সাল নাগাদ অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা ১০ কোটি ৮২ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। গাড়ি ও বিদ্যুৎ গ্রিডে ভারী ইস্পাতের জায়গা দখল করে নিচ্ছে হালকা ওজনের অ্যালুমিনিয়াম, যা ধাতুটির চাহিদা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের কারণে টান পড়তে পারে ইস্পাতের চাহিদায়। নিম্নমুখী চাহিদা ও অনেক বেশি উৎপাদনে ধাতুটির দাম ২০২৭ সাল নাগাদ ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৫৩৭ ডলারে নামতে পারে। অন্যদিকে, ধাতুটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইস্পাতের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে চীনও বড় ভূমিকা রাখছে। শীর্ষ ইস্পাত ব্যবহারকারী দেশটির আবাসন খাতে চলমান অস্থিরতার কারণে ধাতুটির চাহিদা ও ব্যবহার নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। 

দেশটির অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ইস্পাতের ব্যবহার চলতি বছর ৮ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে।