এশীয় ব্যবসায় বিপ্লব এনেছে ফিনটেকের প্রসার। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটেছে অপ্রত্যাশিত গতিতে। পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ধারণায়ও। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি বা ফিনটেক বলতে এমন সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কিংবা প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়, যার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদন করা যায়। এশীয় অঞ্চলে গত এক দশকে লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে ফিনটেক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই) ও পে-নাউ সংযুক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সহজ হয়ে ওঠে। একই মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ফোনপে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেয়া শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিষেবা। ফোনপে অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহারকারীরা তাদের যেকোনো ভারতীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, নেপাল ও ভুটানের পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই এ সম্পর্ক প্রচলিত ব্যাংকের জটিলতা কমিয়ে এনেছে। তৈরি করেছে লেনদেনের নতুন সুযোগ। অবশ্য প্রথমবার দুটি ডিজিটাল মাধ্যমের সংযুক্তি ধারণার শুরু হয় ২০২১ সালে। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড দুটি প্রতিষ্ঠান পে-নাউ ও প্রম্পটপে যুক্ত হয় তখন।
ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে দুটি দেশের সংযুক্তি নতুন যুগের সূচনা করে। এর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে অর্থ পাঠাতে পারে। ছাত্রদের জন্য বাইরে পড়াশোনা সহজ হয়। অভিবাসী শ্রম খাতে এশীয় জনসংখ্যার হার অনেক বেশি। তবে এশীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে কম আয়ের ছোট প্রতিষ্ঠানের ছোট ব্যবসায়ীও সহজেই চালিয়ে নিতে পারেন ব্যবসা।
কভিড-১৯ মহামারীতে নগদ অর্থের লেনদেন অনিরাপদ হয়ে ওঠে। সে সুযোগে ত্বরান্বিত হয় ডিজিটাল লেনদেন। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই চালিয়ে যেতে পারে তার বিক্রয় কার্যক্রম। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলোও খুলেছে ডিজিটাল পরিষেবা। ম্যাকেনজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার ৭৫ শতাংশ জনগণই মহামারীর সময়েই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম ব্যবহার শুরু করে। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পরও তারা আগের লেনদেন মাধ্যমে ফিরে যায়নি। অভ্যস্ত হয়ে গেছে ডিজিটাল পরিষেবায়। দুই বছর আগে এশিয়ায় ফিনটেকের অর্থায়ন ছিল ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। বর্তমানে তা ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক ফিনটেক বিনিয়োগের ৪০ শতাংশই এশিয়ায়।
দীর্ঘদিন চীন একচেটিয়া বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে এশিয়ার। ফিনটেকের উত্থানে ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় উদীয়মান অর্থনীতির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সনাতন এশীয় ব্যাংকগুলো আবেদন হারাচ্ছে সত্য, একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগে প্রবেশ করছে। ভার্চুয়াল ব্যাংকিং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সহজ করেছে। তাদের প্রচলিত ব্যাংকের সীমাবদ্ধতায় জড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি। হাতের নাগালে এসেছে চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা। ২০২১ সালের জিএসএমএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়াজুড়ে ১২০ কোটি মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এশিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অবকাঠামোয় ফিনটেক আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।










