এশিয়ার বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির দিকে। এর প্রভাব পড়ছে ইউরোপের বাজারে। আগে স্থানীয় বাজারে কমোডিটি মূল্যের ওপর শুধু তেলের মূল্যের প্রভাব থাকলেও এবার গ্যাসের দামও প্রভাব বিস্তার করছে। খবর ব্লুমবার্গ।

এবার শীতকালীন এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব লক্ষ করা গেছে। উত্তর গোলার্ধে হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে এশিয়ার বাজারে সরবরাহের জন্য থাকা গ্যাস জমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ইউরোপের এলএনজির সবচেয়ে বড় বাজার এশিয়ায় দরবৃদ্ধির মতো ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

অ্যাক্সপো সলিউশন এজির ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মডেলিংয়ের প্রধান অ্যান্ডি সামার বলেন, আগামী বছরগুলোতে ইউরোপের গ্যাসের দাম ইউরোপের বাজারকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হবে না, বরং তা বৈশ্বিক প্রভাবে নির্ধারিত হবে।

বহুমুখী পাইপলাইন সাপ্লাই অপশন থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। উত্তর সাগরে গ্যাসফিল্ডগুলোর জোগান শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে জানা যায়। একই সঙ্গে সমুদ্র ব্যবহার করে এলএনজি পরিবহনের চাহিদাও বাড়ছে।

সামনের বছরগুলোতে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে এলএনজি নিয়ে ইউরোপকে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। পাশাপাশি কিছু এশিয়ান দেশ তাদের বিদ্যুৎ খাতে কয়লা ও জ্বালানি তেলের পরিবর্তে গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে পুনর্ব্যবহার যোগ্য গ্যাসের চাহিদা বাড়বে।

অ্যান্ডি সামার জানান, এটিকে কয়লার বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এশিয়া সবসময় ইউরোপের কয়লার দামের ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা ছিল। বর্তমানে গ্যাসের দামের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।