রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের সেরেনেড অব দ্য সিস তার মহাকাব্যিক যাত্রা শেষে ডকে ভিড়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় অপরিচিত কিছু মুখ সেলিব্রিটির উপাধি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ ভ্রমণের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় নয় মাস, আর পুরোটা সময় প্রমোদতরীটির খবর জানতে উদগ্রীব ছিল বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ।

কারো কারো মতে, এ সমুদ্র সফর পরিণত হয়েছিল রিয়েলিটি শোতে! গত বছরের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে যাত্রা শুরু করে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের এই ক্রুজ। এ যাত্রায় ৬৫টিরও বেশি দেশ এবং সাতটি মহাদেশ ভ্রমণ করে বিলাসবহুল জাহাজটি। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর অভিযানের সমাপ্তিসূচক নোঙর ফেলে সেরেনেড অব দ্য সিস। আর মিশ্র অনুভূতি নিয়ে যাত্রীরা যাত্রা করে বাড়ির পথে। এর আগে পুরো যাত্রায় তাদের অনেকেই টুকরো টুকরো মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে রীতিমতো তারকা বনে যান।

আদিতা লারসন ও ড. জেনির মতো বিখ্যাত যাত্রীরা ক্রুজটির দীর্ঘ ভ্রমণের উত্থান-পতন নথিভুক্ত করেন। লারসন জানান, এ দীর্ঘ যাত্রা তার কাছে কখনো কখনো আবেদন জাগাত না। অনেক যাত্রী ক্লান্তির কারণে তীরে না নেমে জাহাজে বিশ্রাম নিতেন। চ্যালেঞ্জিং হলেও অ্যান্টার্কটিকার হিমশৈলের মতো সুন্দর দৃশ্যগুলো এ সফরকে মূল্যবান করে তুলেছিল। ৬৫০ জন যাত্রীকে নিয়ে সফর শুরু করে সেরেনেড অব দ্য সিস। এ যাত্রায় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রুট পরিবর্তন এবং একজন যাত্রীর মৃত্যুসহ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় প্রমোদতরী।

যাত্রীরা যখন ভ্রমণের জন্য আবেদন করেন তখন রাশিয়া ও ইউক্রেন ছিল গন্তব্যের তালিকায়। এমনকি ইসরায়েলকে তালিকায় রাখা হলে পরে বাদ দেয়া হয়। গত বছরের শেষ দিকে লোহিত সাগর বিপজ্জনক সমুদ্রপথ হিসেবে নাম কামিয়েছে। এ কারণে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল নিয়ে ভোটাভুটি হয় জাহাজে। এ সময় অঞ্চলটির পরিবর্তে আফ্রিকার চারপাশের নতুন রুটে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন তারা। এদিকে একটি ভ্রমণ সফল হতে না হতেই পরবর্তী বিশ্বভ্রমণের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। খবর পিপল ও ছবি রয়্যাল ক্যারিবিয়ান