ভারতের কাজুবাদাম রফতানি খাতের শীর্ষ বাজারগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। দেশটি থেকে প্রতি বছর জাপানে যে পরিমাণ কাজুবাদাম রফতানি হয়, তার অধিকাংশের দখল থাকে কেরালায় উৎপাদিত কাজুবাদামের। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি প্রায় স্থগিত হয়ে পড়েছে। তবে কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জাপানের বাজারে কেরালার কাজুবাদাম রফতানি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস লাইন।
ভারত থেকে প্রতি বছর গড়ে ১০ হাজার টনের মতো কাজুবাদাম জাপানে রফতানি হয়। এর মধ্যে কেরালার কাজুবাদাম রফতানির পরিমাণ থাকে প্রায় আট হাজার টন। গত বছর চাহিদার ব্যাপক পতনের পরও রাজ্যটি থেকে জাপানে পাঁচ হাজার টন কাজুবাদাম রফতানি হয়েছিল।
তবে কভিড-পরবর্তী সময়ে জাপানের বাজার ধরতে তত্পর থাকতে হবে কেরালার কাজুবাদাম রফতানিকারকদের। এ সময় কোনো ধরনের বিলম্বে বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে ভিয়েতনাম ও চীনসহ অন্য কাজুবাদাম রফতানিকারক দেশগুলোর আধিপত্য অর্জনের সুযোগ হতে পারে। ফলে বাজার হারাতে পারে কেরালার কাজুবাদাম রফতানিকারকরা।
এমনিতেই কেরালার কাজুবাদামের উৎপাদন খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষ কাজুবাদাম রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনামে প্রতি কেজি কাজুবাদামের উৎপাদন খরচ ৩৫০ রুপির মধ্যে। সেখানে কেরালার পণ্যটির উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেশি। রাজ্যটিতে প্রতি কেজি কাজুবাদাম উৎপাদনে খরচ পড়ে গড়ে ৭০০ রুপি করে।
জাপানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কেরালার কাজুবাদাম রফতানি অন্যতম বাজার। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এসব দেশে পণ্যটির চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। তবে মহামারী শেষে এসব দেশে পণ্যটির চাহিদা পুনরায় বাড়তে পারে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান কাজু ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আর কে ভোদেশ বলেন, কাজুবাদামে প্রচুর জিংকের উপস্থিতি থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভোক্তা দেশগুলোতে পণ্যটির চাহিদা বাড়তে পারে।
এদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও কাজুবাদামের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি বিধিনিষেধে সামাজিক অনুষ্ঠান বাতিল হওয়া এর পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই বছর লেগে যেতে পারে বলে জানান তিনি।










