রফতানি বাণিজ্যকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি। রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত সিআইপি ( রফতানি ও ট্রেড)-২০২২ কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রফতানি পণ্য বাড়াতে চামড়া, পাট, চা, ওষুধ শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যাতে আরো ব্যবসায়ী সিআইপি সম্মাননায় ভূষিত হতে পারে এবং দেশের রফতানি বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হস্তশিল্পকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন।৷একটি গ্রাম, একটি পণ্য স্লোগানে সারা দেশ থেকে তৃণমূল কারিগর নিজের পণ্য যেন রফতানি ও বাজারজাত করতে পারে, তাদের আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে হস্তশিল্পকে বিকল্প রফতানি পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে চাই।

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পহেলা বৈশাখে প্রত্যেক দূতাবাসে বৈশাখী মেলা করে সেখানে হস্তশিল্প পৌঁছে দিতে চাই, যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের রফতানি বাণিজ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।’

দেশের সার্বিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাপান, ভারত, চায়নাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ ও পিটিএ নিয়ে কাজ করছি। এর লক্ষ্য রফতানি বহুমুখীকরণ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা।’

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান।

বক্তব্য শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী সিআইপি (রফতানি ও ট্রেড)-২০২২ সম্মাননা প্রাপ্তদের মাঝে কার্ড প্রদান করেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের রফতানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় এবার ১৮৪ ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করে কার্ড দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রফতানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪০ জন ও পদাধিকারবলে এফবিসিসিআইয়ের ৪৪ জন পরিচালক সিআইপি কার্ড পেয়েছেন। ২০২২ সালের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তাদের নির্বাচিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

সিআইপি কার্ডধারী ব্যক্তিরা সচিবালয়ে প্রবেশে সেটি বিশেষ পাস হিসেবে ব্যবহার করবেন। ব্যবসা-সংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল, সড়ক ও নৌপথে সরকারি যানবাহনে সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার, বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহার, ব্যবসায়িক কাজে বিদেশ ভ্রমণের ভিসা প্রাপ্তির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন সুবিধা পাবেন।