তামার বৈশ্বিক চাহিদা ২০২২ সাল নাগাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থীতিশীল বাজারে চলতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ টন তামার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মূলত এ কারণেই তামার বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রোট কপার কাউন্সিল (আইডব্লিউসিসি)। খবর রয়টার্স।

আইডব্লিউসিসি জানায়, আগামী বছর পরিশোধিত তামার চাহিদা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। এ সময় ধাতুটির সরবরাহ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়াবে।

চলতি বছর পরিশোধিত তামার চাহিদার পরিমাণ ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৫৮ হাজার টনে পৌঁছে। এ বছর ধাতুটি সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধাতু খাতটিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ বছর পরিশোধিত তামার ঘাটতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টনে পৌঁছবে বলে মনে করছে আইডব্লিউসিসি।

আইডব্লিউসিসি জানায়, গত বছর শুরু হওয়া করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে পরিশোধিত তামার চাহিদা।

চীন বিশ্বের শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ। আগামী বছর দেশটির তামার চাহিদা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬ হাজার টনে উন্নীত হবে। চলতি বছর চাহিদার পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি মাসে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তামার দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এ মাসে এলএমইতে ধাতুটির দাম বেড়ে ১০ হাজার ৭৪৭ ডলারে পৌঁছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে আগামী বছর তামার ব্যবহার ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩১ লাখ টনে দাঁড়াবে। এ বছর ব্যবহারের পরিমাণ ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় ২০২২ সালে তামার চাহিদা ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে।