রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে চীনের মাসভিত্তিক কয়লা আমদানি। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় কয়লা ব্যবহারকারী দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সংকটে ভুগছিল। এর মধ্যে শীতের প্রভাবে পণ্যটির চাহিদা কয়েক ধাপ বেড়ে যায়। শক্তিশালী চাহিদা মেটাতে নভেম্বরে বছরের সর্বাধিক কয়লা আমদানি করা হয়। আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উত্তোলনও বাড়ছে। স্থিতি ফিরছে কয়লার বাজারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, গত মাসে দেশটি ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টন।

এদিকে আমদানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছলেও বিপাকে পড়েছেন কয়লা আমদানিকারকরা। জ্বালানি সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চীন সরকার নানা উদ্যোগ নেয়ায় কয়লার দাম ৫০ শতাংশ কমে যায়। ফলে ব্যবসায়ীরা কয়লার চালান লোকসানে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া কোনো কোনো ব্যবসায়ী আমদানিতে বিলম্বও করেছেন।

অন্যদিকে চাহিদা বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ সত্ত্বেও দেশটি থেকে কয়লা আমদানি করা হয়। কিন্তু উত্তপ্ত সম্পর্কের কারণে এসব কয়লা বন্দরে ছাড়পত্রের অভাবে আটকা পড়েছিল। তবে অক্টোবর থেকে চীন সরকার অস্ট্রেলিয়ান কয়লা খালাসে ছাড়পত্র দেয়া শুরু করে।

দেশটির শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, অক্টোবরে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৯১৫ টন অস্ট্রেলিয়ান তাপীয় কয়লা স্থানীয় বাজারে সরবরাহের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ান কয়লার ওপর থেকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা এখনো তুলে নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের নভেম্বরের তুলনায়ও আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। কয়লা আমদানি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কারণে সে সময় ১ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা আমদানি করা হয়েছিল।

শুল্ক বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১১ মাসে চীন ২৯ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।

জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দৈনিক কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বেইজিং। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে খনি মালিকদের উত্তোলন বাড়াতে বলা হয়েছে। ফলে দেশটিতে কয়লার দাম কমেছে। বিদ্যুৎ ঘাটতিও কমতে শুরু করেছে। চীনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় কয়লার মজুদও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোয় মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টনে। মজুদের পরিমাণ রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।