চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে। গত বছরের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন উৎপাদন হয়েছে চলতি বছরের জুলাইয়ে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে মাসভিত্তিক উৎপাদন সীমিত করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এ লক্ষ্যে চলতি বছর ধাতব পণ্য, বিশেষ করে ইস্পাত উৎপাদনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীনের সরকার।

গত মাসে চীন সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। জুনের তুলনায় উৎপাদন ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। গত বছরের জুলাইয়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ৮ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এনবিএসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুধু মাসভিত্তিক নয়, দৈনিক উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। গত মাসে চীন দৈনিক ২৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। জুনে দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ৩০ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক উৎপাদন ১১ শতাংশ কমেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এ বছর ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের পরিকল্পনা থাকলেও বছরের প্রথমার্ধে উৎপাদন অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে উৎপাদনে লাগাম টেনে ধরতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জুন থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দল। এসব দলের সদস্যদের বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় সরকার ও কারখানা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য ইস্পাত সক্ষমতা এবং উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ দলগুলো অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ চুল্লি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এছাড়া যেসব বিগলন কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি দূষণের জন্য দায়ী সেগুলোতে উৎপাদনসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে।

চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, যেসব কোম্পানির পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা কম সেগুলোর অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমিয়ে আনতে যথাযথ উদ্যোগ হাতে নেয়া দরকার। বিগলন কেন্দ্রগুলোতে অতিমাত্রায় জ্বালানি ব্যবহার এবং সনাতন প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার বন্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। অ্যাসোসিয়েশন এবং বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চীনে ইস্পাতের চাহিদা ক্ষীণ হয়ে আসতে পারে।

এনবিএসের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীনে ৬৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৮ শতাংশ বেড়েছে।