অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মাকতুম বিন মোহাম্মদ রোববার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‌২০২৩-২৬ মেয়াদি কৌশল পরিকল্পনায় আর্থিক ক্ষমতায়ন, স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন, আর্থিক নেতৃত্বের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দূরদর্শিতার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’ খবর খালিজ টাইমস।

কৌশলগত প্রবৃদ্ধির উদ্যোগ মূলত ইউএইর শতবর্ষ পরিকল্পনা ২০৭১-কে এগিয়ে নেয়ারই অংশ। শেখ মাকতুম বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা টেকসই আর্থিক নীতি প্রয়োগ করে আস্থা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে গুরুত্বারোপ করব এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করব। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমরা নিশ্চিত করব আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মচঞ্চলতা। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্য পূরণ নিশ্চিত করব।’

দেশটি তেলখাতের ওপর থেকে একচেটিয়া নির্ভরশীলতা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তেলবহির্ভূত খাত বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফেডারেলের প্রতিযোগিতা ও পরিসংখ্যান কেন্দ্রের প্রাথমিক তথ্যকে উদ্ধৃত করে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক বলেছিলেন, ‘‌মার্চ পর্যন্ত বছরের প্রথম তিন মাসে মোট দেশজ উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪১ হাজার ৮৩০ কোটি দিরহাম বা ১১ হাজার ৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগের ৪০ হাজার ৩৩০ কোটি দিরহাম থেকে বেশি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুয়ায়ী, দেশটির অর্থনীতি চলতি বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ও আগামী বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলবহির্ভূত অন্যান্য খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ইউএইর জিডিপি ২০২২ সালে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

শেখ মাকতুম বলেছেন, মানবসম্পদ ও আইনি কাঠামো থেকে স্থানীয় ব্যবসার পরিবেশ, আর্থিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব নিয়ে সাজানো আমাদের পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আমাদের কৌশলগত উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম করে তুলবে। আমরা প্রতিভা আকর্ষণ ও ক্ষমতায়ন, দক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক পরিষেবা, এআই সক্ষম ডিজিটাল অবকাঠামো প্রদান, মানবসম্পদ, নেতৃত্ব, গুণগত মান, প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ ও কর্মক্ষমতা পরিমাপের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অনুশীলন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেব।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় একটি পাবলিক ফাইন্যান্স রোড ম্যাপ ডিজাইনের মাধ্যমে আর্থিক কর্মক্ষমতা বাড়ানো, বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা জোরদার ও সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাসহ তিনটি লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।