যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমান ‘এএএ’ থেকে এক ধাপ নামিয়ে ‘এএ+’ রেটিংয়ে বসিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ও ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগই ক্রেডিট রেটিং নেমে আসার প্রধান কারণ। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে সংঘটিত বিশৃঙ্খলাও অন্যতম অনুঘটক হিসেবে ছিল। খবর সিএনএন।
বিশ্বব্যাপী মুডি’স, এসঅ্যান্ডপি ও ফিচ প্রতিষ্ঠান তিনটির নির্ধারিত ঋণমানের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। ফিচ দাবি করেছে, এটা হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ২০ বছর ধরেই তারা মার্কিন প্রশাসনে ‘সুশাসনের ধারাবাহিক অবক্ষয়’ লক্ষ করছে। বিশেষ করে ঋণ ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে অবস্থান এতে ভূমিকা রেখেছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ফিচের এ সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ২০১৮-২০ সালের ‘পুরনো ডাটা’র ওপর ভিত্তি করে ওই রেটিং দিয়েছে ফিচ। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ফিচ রেটিংসের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করছি। ফিচ রেটিংসের পরিবর্তন পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।’
বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে চলমান সভায় ফিচ বারবার ৬ জানুয়ারির বিদ্রোহের প্রসঙ্গ তুলে এনেছে, যা মার্কিন সরকারের প্রতি উদ্বেগ তৈরি করে। কোনো দেশকে ঋণ দেয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বোঝার জন্য বিনিয়োগকারীরা ক্রেডিট রেটিংকে একটি মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। অর্থনীতির আকার ও স্থিতিশীলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেয়ার বিষয়টি নিরাপদ হিসেবেই বিবেচিত। তবে বর্তমান অবনমন সে গল্পে ইতি টানছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সরকারের ঋণসীমা নিয়ে চলতি বছরে রাজনৈতিক টানাপড়েন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
দেশটির ঋণমান কমানোর পর বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতের ডলারের পতন হয়েছে। যদিও বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষক বলেছেন, তারা আশা করছেন এ অবনমনের প্রভাব সীমিত হবে। অবনমনের যৌক্তিকতা হাজির করতে গিয়ে ফিচ দাবি করেছে, আগামী তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নেতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করবে। উচ্চ ও ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা প্রভাব বিস্তার করবে। এদিকে সিনেটের অধিকাংশ নেতাই অবনমনের জন্য রিপাবলিকানদের দায়ী করেছেন। তাদের একগুঁয়েমির কারণেই দেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়েছে বলে দাবি তাদের। যদিও স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে স্বীকৃত হননি।
ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি ও বিরোধী দলে থাকা রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের দরকষাকষি শেষে জুনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণসীমা ৩১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে দেশটি। সে সময় সমঝোতা সম্ভব না হলে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত যুক্তরাষ্ট্র। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থেকে ফিরে কংগ্রেস যখন আবার অধিবেশনে আসবে, তখন দেশটির আইনপ্রণেতাদের আগামী বছরের বাজেট নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। সেটা করতে হবে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই। তা না হলে যুক্তরষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
সর্বশেষে এসঅ্যান্ডপি ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমান কমিয়েছিল। সে সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত রেটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্তোষজনক অবস্থানই ধরে রাখে। ফিচের নতুন ঘোষণা অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়া ও ফিনল্যান্ডের ওপরে রাখা হলেও সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির নিচে রাখা হয়েছে। ফিচ পরিবর্তন করলেও বাকি দুই প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি ও মুডি’স পরিবর্তন আনেনি। এসঅ্যান্ডপি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘এএ+’ ও মুডি’স ‘এএএ’ রেটিংয়ে বহাল রেখেছে।










