ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ২০২৬ এর প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন (ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্ট)। ‘বৈষম্য নয়, চাই অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো’ এই প্রতিপাদ্যে গতকাল (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান উন্নয়ন মডেল ধনী-দরিদ্র, কেন্দ্র-প্রান্ত এবং প্রজন্মগত বৈষম্য আরো তীব্র করছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৬-এ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হলেও, বাস্তবে বৈষম্য হ্রাসের প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রেই নীতিগত অঙ্গীকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না; বরং আয়, সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য আরো গভীর হচ্ছে— এমন বাস্তবতা তুলে ধরেন বক্তারা।

ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্ট (ডিবিএম) এর সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে বৈষম্য নিয়ে আলোচনা হয় ঠিকই, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে এখনো করপোরেট স্বার্থ ও প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পায়। আমরা মনে করি, বৈষম্য কমাতে হলে বাজেট কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।‘

তিনি আরো বলেন, ন্যায়ভিত্তিক করব্যবস্থা, কালো টাকা ও কর ফাঁকি রোধ এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রক্রিয়া ছাড়া বৈষম্য হ্রাস সম্ভব নয়।

আমরাই আগামী’র পরিচালক এস জেড অপু তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয় এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও মূল্যবোধের প্রতিফলন। যদি বাজেট প্রণয়নে তরুণ, নারী, শ্রমজীবী মানুষ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর না থাকে, তবে বৈষম্য আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৬ এ এই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।‘

-বিজ্ঞপ্তি