ফিলিপাইনে অপরিশোধিত চিনি উৎপাদন অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ভোগ্যপণ্যটির মূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে চলমান চিনি সংকটের প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত থাকা যাবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ফিলিপাইনের সুগার রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফিলিপাইনে ১০ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২০৪ টন। সে হিসাবে উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা ক্ষীণ বলেও জানা গেছে। আগের সপ্তাহে উৎপাদনে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছিল।

ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের কারণে সরবরাহ বেড়েছে। বর্তমান সরবরাহের পরিমাণ ১২ লাখ ৭০ হাজার টন, যা আগের চেয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনে চিনি উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে দেশটিতে অপরিশোধিত চিনির চাহিদা ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ বাড়তে পারে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৫১ টনে।

এদিকে দেশটিতে পরিশোধিত চিনি উৎপাদনও বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশটিতে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৯ টন চিনি উৎপাদন হয়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। আখ মাড়াইয়ের হার দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। মাড়াইয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টনে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারে চিনির ঘাটতি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পণ্যটির দাম। ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ফিলিপাইন সরকার।

এদিকে চলতি মৌসুমে ভয়াবহ ঘাটতি থাকলেও আগামী বিপণন মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি বড় ব্যবধানে কমার পূর্বাভাস মিলেছে। ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে ইতিবাচক উৎপাদন পরিস্থিতি ঘাটতি কমাতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বাজারবিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পুল।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি দাঁড়াবে ৭ লাখ ৪২ হাজার টন। ২০২১-২২ মৌসুমে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৩০ হাজার টন। ঘাটতি কমলে বাজারে স্থিলিশীলতা ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার টন।