যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা চলতি বছর দ্রুত সুদহার কমানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির প্রতি নজর রাখছেন। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত  ফেডের বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

বৈঠকের বিবরণী অনুসারে, ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি কমে আসা ও কর্মসংস্থানে অগ্রগতি স্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন,   সুদহার বর্তমানে ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে রয়েছে, যা ২৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুদহার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করার সময় এখনো আসেনি বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। এজন্য তারা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির প্রতি নজর রাখছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বুধবার মার্কিন স্টক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুই বছরের ট্রেজারি ইল্ড সাময়িকভাবে কিছুটা বেড়েছে, যা কেন্দ্রীয় সুদহার কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভের প্রথম বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়। অর্থাৎ গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে মার্কিন আর্থিক খাতের প্রত্যাশা ছিল চলতি বছরে মার্চ থেকে ফেড সুদহার কমাতে শুরু করবে। কিন্তু জানুয়ারির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সে প্রত্যাশার জোরালো বিরোধিতা করেন। ফলে মার্কিন ইকুইটি মার্কেটে বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

জানুয়ারিতে জেরোম পাওয়েল আরো বলেছিলেন, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি মার্কিন সরকারের বন্ড বিক্রির গতি কখন কমিয়ে আনতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। কম বন্ড বিক্রি করলে ফেডের ব্যালান্স শিটে আরো বন্ড থাকবে। এটি ব্যালান্স শিটকে সংকুচিত হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

সুদহার কমানোর প্রসঙ্গে জেরোম পাওয়েলের সতর্ক অবস্থানের সঙ্গে জানুয়ারির বৈঠকের প্রতিবেদন মিলে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে জেরোম পাওয়েল জানিয়েছিলেন, ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে সুদহার কমানো। তবে ফেড মার্চের আসন্ন বৈঠকেই সুদহার কমাবে না। মার্কিন ব্যবসায়ীরা চলতি বছরে চারবার সুদহার কমানোর প্রত্যাশা করছেন। তবে ফেডের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় চলতি বছর তিনবার সুদহার কমানোর কথা বলা হয়েছে।

ফেডের শেষ বৈঠকের পর শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বছরে ভোক্তা মূল্য ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যা ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমেছে। তবে এটি প্রত্যাশার চেয়ে কম। কোর (জ্বালানি ও খাদ্য বাদে) মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে রয়েছে।

ফেডের মূল্যস্ফীতির পরিমাপক ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) সূচক অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষার্ধে মূল্যস্ফীতি ব্যাপক কমেছে। মূলত তা কমে আসায় চলতি বছর সুদহার কমানোর আশা জেগেছে। মার্কিন মূল্যস্ফীতি গত ছয় মাস ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে।

তবে ফেডের সুদহার নির্ধারকরা মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে”স্বীকার করলেও কিছু ফেড কর্মকর্তা এখনো উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের মতে, দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো বেশি আর্থিক চাপে রয়েছে।