গত বছরের শেষে কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর কিছু সময়ের জন্য পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটছিল চীনের আবাসন খাত। তবে নতুন করে বাজার সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে বাড়ির দামে ফের মন্থরতা লক্ষণীয়। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে, এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিযুক্ত আবাসন ছাড়া ৭০টি শহরে নতুন বাড়ির দাম মাত্র দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে, মার্চে যা ছিল দশমিক ৪৪ শতাংশ। তাছাড়া এক মাস আগে দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধির পর সেকেন্ডারি মার্কেটে দাম বেড়েছে মাত্র দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
প্রায় ১৮ মাসের ঐতিহাসিক মন্দার পর বাড়ির মূল্য ও বিক্রয়াবস্থার খানিকটা পুনরুদ্ধার ঘটলেও পুনরায় আবাসন বাজারে দুর্বলতার লক্ষণ দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক সপ্তাহের বিভিন্ন সূচক নির্দেশ করছে যে বেইজিংয়ের বাজারকে এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাড়ি ক্রয়ের গতি নিম্নমুখী।
এ সম্পর্কে চায়না ইনডেক্স হোল্ডিংসের সহযোগী গবেষণা পরিচালক চেন ওয়েনজিং বলেন, ‘আবাসন খাতের সম্ভাব্য ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখা জরুরি। তাই সম্পত্তি সম্পর্কিত নীতিগুলো সম্ভবত স্বল্প মেয়াদে শিথিল থাকবে।’
প্রত্যাশার তুলনায় এপ্রিলে আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান কম এসেছে। নতুন আবাসনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের পরিমাণও কমেছে গত মাসে। বাসিন্দারা এ সময়ের মধ্যে ধার নেয়ার চেয়ে বন্ধকের বিপরীতে বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মুখপাত্র ফু লিনহুই মঙ্গলবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আবাসন বাজারকে স্থিতিশীল করতে আরো প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
চলতি বছর চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত আবাসন। দেশটির জিডিপিতে এর অংশগ্রহণ ২০ শতাংশ। এদিকে আবাসন খাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও নির্ভরশীল; কেননা আবাসন খাতের গতিশীলতা লোহা, আকরিক ও তামার মতো পণ্যের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করে।
আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মুডি’স ইনভেস্টরস সার্ভিসের এক বিশ্লেষণে আবাসন খাত ঘিরে নেতিবাচক মনোভাবের পরিবর্তে স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি আরোপের কথা বলা হয়েছে। কারণ সংস্থাটি আশা করছে আগামী ১২ মাসের মধ্যে আবাসন খাতের অবস্থা স্থিতিশীল হবে। এ সম্পর্কে বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের চীনভিত্তিক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ওয়াং তাও বলেন, ‘নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে পরিবারের আয়ের উন্নতির সঙ্গে সম্পত্তি-সম্পর্কিত ঋণের পরিমাণ ক্রমে প্রশমিত হতে পারে।’
২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকেই চীন আবাসন খাত ঘিরে নানা ধরনের বিপর্যয় মোকাবেলা করছে। সে সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ খাতের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত সুবিধা বন্ধ করে দিতে শুরু করে। অবশ্য এর জন্য দায়ীও ছিলেন আবাসন খাতের কিছু ব্যবসায়ী। যেহেতু আবাসন প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে ছিল, তাই ক্রেতারাও মূল্য পরিশোধ করছিলেন না। ফলে খাতজুড়ে রীতিমতো বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। বিপর্যস্ত খাতটি সে সময় থেকেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির জন্য রীতিমতো বোঝায় পরিণত হয়। এমনিতেই কভিড-১৯ সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে চীনের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ওপর আবাসন খাতটি হয়ে উঠেছে আরো বড় চিন্তার কারণ।










