টানা দুই সপ্তাহ এশিয়ায় এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। চীন, জাপান, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সরকারি বিধিনিষেধ কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে এতদিন বন্ধ থাকা অর্থনৈতিক ও শিল্প খাত ধীরে ধীরে কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে। এর জের ধরে এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজির চাহিদা বাড়ছে। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যটির রফতানি কমে গেছে। এছাড়া মহামারীর মধ্যে অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে সরবরাহ সংকটে এ অঞ্চলে এলএনজির দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

চলতি সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় আগামী জুনে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (প্রতি ঘনফুটে ১ হাজার ৩৬ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির গড় দাম দাঁড়াতে পারে ২ ডলার ৪০ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৪০ সেন্ট বেশি। এর আগের সপ্তাহেও জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে ছিল। এছাড়া আগামী জুলাই মাসে সরবরাহ করা চুক্তিতে জ্বালানি পণ্যটির দাম বর্তমানের তুলনায় অপরিবর্তিত বা সামান্য কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন এলএনজি ব্যবসায়ী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউন কমিয়ে আনায় এশিয়ার অনেক দেশে পরিবহন ও শিল্প খাত কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এর বাইরে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির এলএনজি পরিবাহী কার্গো কমে আসা এক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে।

এশিয়ায় এলএনজি সরবরাহের অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। উভয় দেশেই জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন ও সরবরাহে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে, যা এ অঞ্চলে পণ্যটির সরবরাহ সংকট আরো গভীর করে তুলেছে। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  অস্ট্রেলিয়ার কমপক্ষে একটি উৎপাদনকেন্দ্রের যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণে বেশ কয়েকটি কার্গো যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি শেভরনের মালিকানাধীন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জর্জন এলএনজি এক্সপোর্ট প্লান্ট গত ২৩ মে থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত একটি ট্রেইন বন্ধ করে রেখেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার জিএস এনার্জি আগামী জুনে সরবরাহ চুক্তিতে একটি এলএনজি পরিবাহী কার্গো কিনেছে, যার প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের দাম পড়েছে ২ ডলার ৬০ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৭০ সেন্টের মধ্যে। এ সময়ে চীনের গুয়াংডং এনার্জি গ্রুপ, যা সাধারণত গুয়াংডং উডিয়ান গ্রুপ নামে পরিচিত, জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে একটি  কার্গো  কিনেছে। কোম্পানির ক্রয় করা প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটি এলএনজির দাম পড়েছে ২ ডলার ৪০ সেন্ট।

চীনের আরেক কোম্পানি ফোরান এনার্জি গ্রুপের জুনে সরবরাহ করা চুক্তিতে ক্রয় করা একটি কার্গোর প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ২ ডলার ৬০ সেন্ট। এ সময়ে থাইল্যান্ডের পিটিটি একই সময়ে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট ২ ডলার ৩০ সেন্ট থেকে আড়াই ডলারের মূল্যের মধ্যে একটি এলএনজি পরিবাহী কার্গো কিনেছে।

বিক্রেতাদের মধ্যে ব্রুনাই এলএনজি জুলাইয়ে সরবরাহ করা চুক্তিতে একটি কার্গো চলতি সপ্তাহে বিক্রি করেছে। এর প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের দাম দাঁড়িয়েছে আড়াই ডলার থেকে ২ ডলার ৬০ সেন্টের মধ্যে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহে ভারতের গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (জিএসপিসি) জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করার চুক্তিতে পাঁচটি কার্গো খুঁজছিল। জাপানের তোহুকু ইলেকট্রনিকস জুনের শেষ দিকে সরবরাহ চুক্তিতে ও প্রতি  মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট গড়ে ২ ডলার ৪০ সেন্টের মধ্যে একটি কার্গো খুঁজছিল বলে ট্রেডাররা জানিয়েছে।

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে অ্যাঙ্গোলা এলএনজির একটি কার্গো চলতি মাসের শেষের দিকে সরবরাহ অফার নিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল। এছাড়া জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে সরবরাহ চুক্তিতে নেভাটেক একটি কার্গো বিক্রির অফার করেছিল। এর বাইরে আরো কিছু কার্গো ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যারা পণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।