ফের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২৭০ কোটি ডলার লোকসান গুনেছে। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকেও সংস্থাটি ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার লোকসানে পড়েছিল। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত আয়-ব্যয়ের উপাত্তে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় ৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আয়ের চেয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাটি ২৭০ কোটি ডলার লোকসানে পড়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছিল ১ হাজার ৩০ কোটি ডলার।
মার্কিন বিনিয়োগকারী ওয়ারেট বাফেট দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন, বার্কশায়ারের পরিচালন মুনাফা প্রতিষ্ঠানের কর্মক্ষমতার একটি ভালো পরিমাপ। কারণ এক্ষেত্রে বিনিয়োগের লাভ-লোকসান বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটির পরিচালন মুনাফা ২০ শতাংশ বেড়ে ৭৭৬ কোটি ডলার বা ক্লাস-এ শেয়ারপ্রতি ৫ হাজার ২৯৩ ডলার ৮৩ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। যেখানে এক বছর আগে এ মুনাফা ছিল ৬৪৭ কোটি ডলার বা ক্লাস-এ শেয়ারপ্রতি ৪ হাজার ৩৩০ ডলার ৬০ সেন্ট। বিশ্লেষকরা তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা ক্লাস-এ শেয়ারপ্রতি ৪ হাজার ২০৫ ডলার ৮২ সেন্টে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বিনিয়োগ করা ৯০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ভালো পারফরম্যান্স করেছে। তবে বীমা কোম্পানি জাইকো করপূর্ব ৭৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার লোকসান গুনেছে। ব্যবহূত গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের সঙ্গে অটো দাবির খরচও বেড়ে গিয়েছে। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাইকো। বার্কশায়ারের আরেকটি দুর্বল পয়েন্ট হলো রেলরোড কোম্পানি বিএনএসএফের মুনাফা ৬ শতাংশ কমে ১৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিবহন ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে।
বার্কশায়ার আবাসন বাজারে যুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যবসারও মালিক। গত বছরের তুলনায় বন্ধকি ঋণের হার দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার কারণে রিয়েল এস্টেট খাতটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক ক্যাথি সিফার্ট বলেন, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বেশ কয়েকটি ব্যবসা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এটি ভালো হবে যদি প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সে সম্পর্কে আরো বিশদ বিবরণ তুলে ধরে। কিন্তু সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অনুশীলন হলো, আর্থিক ফল নিয়ে কনফারেন্স আয়োজনের পরিবর্তে অনলাইনে জানিয়ে দেয় তারা। তাই আগামীতে কী অপেক্ষা করছে সে সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা ওয়াকিবহাল থাকেন না।
তবে এডওয়ার্ড জোনস বিশ্লেষক জিম শানাহান অবশ্য মনে করেন, বার্কশায়ারের আর্থিক ফল সামগ্রিকভাবে ভালো ছিল। বিশেষ করে ইউটিলিটি ইউনিট শক্তিশালী অবদান রেখেছে। মিডআমেরিকান এনার্জি ও প্যাসিফিককর্প অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানটির ইউটিলিটি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়ে ১৫৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বার্কশায়ারের ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওতে রয়েছে অ্যাপল, আমেরিকান এক্সপ্রেস, ব্যাংক অব আমেরিকা ও কোকা-কোলার মতো প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নেব্রাস্কার ওমাহাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে এভিয়েশন যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রিসিজন কাস্টপার্টস, রাসায়নিক উৎপাদক লুব্রিজল, রিটেইল প্রতিষ্ঠান সিজ ক্যান্ডি, ডেইরি কুইন ও হেলজবার্গ ডায়ামন্ডসে।










