ভারতের চাল রফতানির বাজারে দরপতন দেখা গেছে। টানা সাত সপ্তাহ ধরে দরপতনের এ ধারা অব্যাহত আছে। ভারতে করোনায় সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার নিম্ন আয়ের মানুষকে সহায়তার লক্ষ্যে মজুদকৃত চাল বাজারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এতে চাল সরবরাহ বাড়ে। মূলত এ কারণেই খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য কমে গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। চলতি সপ্তাহে দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের রফতানি মূল্য কমে টনপ্রতি ৩৭০ থেকে ৩৭৪ ডলারে নেমে গেছে। গত সপ্তাহে এ জাতের চালের রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৩৭১ থেকে ৩৭৬ ডলার ছিল।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কাকিনাডা শহরের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জানায়, ভারত সরকার স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষে দেশটির ওয়্যারহাউজে মজুদকৃত চাল বাজারে উন্মুক্ত করে দেয়। এতে স্থানীয় চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আসে। এছাড়া ভারত সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটি মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ করেছে।
এদিকে বাংলাদেশে চলতি মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বোরো উৎপাদন বেড়ে ২০ কোটি ৫০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। গত বছর দেশের বোরো ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৬০ লাখ টন। চলতি মৌসুমে আবাদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো উৎপাদনে লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি আসবে। বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিজনেস রেকর্ডার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজনেস রেকর্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বার্ষিক মোট উৎপাদিত চালের অর্ধেকেরও বেশি আসে বোরো ধান থেকে। গত বছর বন্যায় দেশের বোরো ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় চাহিদা পূরণে চাল আমদানি করতে হয়েছিল। তবে এবার উৎপাদন বাড়লে আমদানির পরিমাণ কমে আসবে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম কমে ৪৬৫ থেকে ৪৭৩ ডলারে নেমে গেছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এক সপ্তাহ আগে এ চালের দাম ছিল ৪৭৫-৪৮৫ ডলার। সরবরাহ নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে চালের চাহিদার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটিতে প্রতি টন চাল ৪৯০-৪৯৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রীষ্ম-শরৎ মৌসুমে আবাদকৃত ধানের চাল বাজারে আসার অপেক্ষায় আছেন তারা।
রোমভিত্তিক জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সার্লি মোস্তাফা বলেন, চলতি বছর ভারতের চাল রফতানির পরিমাণ রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। এ সময় দেশটি ১ কোটি ৬২ লাখ টন চাল রফতানি করবে, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। গত বছর ভারত রফতানি করেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টন চাল।
ভারতের একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, চলতি মৌসুমে দেশটি রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিমাণ চাল উৎপাদন করবে। এ মৌসুমে ভারত ১২ কোটি ৩ লাখ টন চাল উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। গত মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ টন।










