চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সৌদি আরবের জ্বালানি তেলবহির্ভূত আয় ১৪ হাজার ৯৮৬ কোটি সৌদি রিয়াল বা ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রান্তিক বাজেট প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত প্রান্তিকে দেশটির সরকারি রাজস্বে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এক বছর আগেও ছিল ৪০ শতাংশের কম। খবর আরব নিউজ।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত প্রান্তিকে দেশটিতে জ্বালানি তেল খাতে আয় ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭৩ কোটি রিয়াল। ফলে মোট রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৬০ কোটি রিয়াল।

একসময় জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত ছিল সৌদি আরব। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের প্রভাব বাড়ছে। যার প্রভাব পড়েছে জিডিপিতেও। এ পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় নেয়া অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ প্রচেষ্টা এবং ২০২৩ সালের শেষ দিকে জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের স্বেচ্ছায় উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত। তবে জ্বালানি তেলের উত্তোলন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে ওপেক প্লাসের।

জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে সৌদি জ্বালানি তেলবহির্ভূত আয়ের মধ্যে পণ্য ও সেবার ওপর কর থেকে এসেছে সর্বাধিক ৭ হাজার ৪৯৫ কোটি রিয়াল, যা মোট করের অর্ধেক। এরপর রয়েছে অন্যান্য আয়, যার আকার ২ হাজার ৮৯০ কোটি রিয়াল। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রশাসনিক ফি, বন্দরসেবা চার্জ, বিজ্ঞাপন কর ও জরিমানার অর্থ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া করপোরেট জাকাত বাবদ আয় হয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি রিয়াল এবং আয়, মুনাফা ও মূলধনি কর বাবদ এসেছে ১ হাজার ৩৭৩ কোটি রিয়াল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন খাত থেকে আয় হয়েছে ৬৩২ কোটি রিয়াল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৬১৩ কোটি রিয়াল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে কর্মীদের পারিশ্রমিক বাবদ—১৪ হাজার ৪০ কোটি রিয়াল। পণ্য ও সেবা খাতে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৮ কোটি রিয়াল। মূলধনি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯০ কোটি রিয়াল, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কম।

দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫৩ কোটি রিয়াল। ঘাটতির এ আকার প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় ৪১ শতাংশ কম হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৩২৩ কোটি রিয়াল, যা পুরোপুরি ঋণ নিয়ে মেটানো হয়েছে। এতে জুন শেষে সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি রিয়াল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ৮৪ শতাংশ দেশীয় এবং বাকি অংশ বৈদেশিক ঋণ।

সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি তেলবহির্ভূত আয়ের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলে রাজস্ব কাঠামো জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পর্যটন, লজিস্টিক, আর্থিক খাত ও উৎপাদন শিল্পের প্রবৃদ্ধি এ ধারা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।