মন্দার কবলে পড়া চীনা অর্থনীতিতে আশা জাগাচ্ছে খুচরা ব্যবসা। দেশটিতে আগস্টে বিক্রি বাড়ায় লাভে খুশি দেশটির খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে মন্দা কাটার হাতছানি দিচ্ছে এ খবর। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বর দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির ভোক্তারা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্রয় করছেন তারা। ফলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খবর জাপান টুডে।
বেইজিংয়ের নেয়া বেশকিছু পদেক্ষপ পরিস্থিতি বদলাতে সহযোগিতা করেছে। সর্বশেষ এ খবর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডাটা বলছে, শিল্প উৎপাদনে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উল্লম্ফন দেখা গেছে।
গত বছর বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর চীনের কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হোঁচট খায়। ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরতার পাশাপাশি চীনের ওপর পশ্চিমা খড়্গ দেশটির ঘুড়ে দাঁড়ানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার সত্ত্বেও দেশটির ভোক্তারা ক্রয় কমিয়ে দিলে বড় ধরনের সংকটে পড়ে দেশটির কারখানা কার্যক্রম। অন্যদিকে, আবাসন খাতে মন্থরতার পাশাপাশি বিদেশী ক্রেতা কমে যাওয়ায় রফতানি আয় হারাতে থাকে বেইজিং। ফলে কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) বলছে, উৎপাদকরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এমন একটি সূচক হচ্ছে খুচরা বিক্রয়। যার সিংহভাগই আসে পারিবারিক চাহিদা থেকে। গত আগস্টে খুচরা বিক্রয় সূচক ২০২২ সালের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
আগস্টের এ উল্লম্ফন ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত জুলাইয়ে খুচরা বিক্রয় সূচক ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এ তথ্যের পর পরই আগস্টে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরেছিল বাজার বিশ্লেষকরা। পূর্বাভাসের চেয়েও আগস্টে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেছে চীন।
পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনেও গত জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি এসেছে। পূর্বাভাস ছাড়িয়ে আগস্টে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত বছরের উৎপাদন মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। সর্বশেষ পদক্ষেপটি হলো বৃহস্পতিবার থেকে পিপলস ব্যাংক অব চায়না রিজার্ভ ধরে রাখতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে।
আবাসন খাতে সরকার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ক্রয় বাড়াতে কর মওকুফ করারও ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং ও সাংহাইসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে মর্টগেজ ঋণের শর্ত শিথিল করেছে। আর প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মর্টগেজ সুদে ছাড় দেয়ারও পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এনবিএসের সাম্প্রতিক তথ্য অর্থনীতির জন্য সুখবর আনলেও এখনো বেশকিছু সংকট চলমান। যেমন আগস্টেও আবাসন খাতের মন্দা দশা বহাল ছিল। খাতটিতে আরো এক দফা দরপতন ঘটনা বলছে, সরকারের পদক্ষেপগুলো এখনো কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। চলতি সপ্তাহে রাষ্ট্রায়ত্ত ডেভেলপার কোম্পানি সিনো-ওশান অফশোর ঋণে অর্থছাড় কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে আগস্টে কর্মক্ষম জনসংখ্যার বিপরীতে বেকারত্বের হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে স্থির মূলধন বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। আগে আবাসন, অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগে ভর করে অর্থনীতি চাঙ্গা থাকত। টানা চার মাস ধরেই খাতগুলোয় বিনিয়োগ কমে গেছে।










