যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে কম, যা দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতিতে মন্থরতা নির্দেশ করে। জুলাইয়ের কর্মপ্রতিবেদনে দেশটিতে নতুন ১ লাখ ৮৭ হাজার চাকরি যুক্ত হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। জুলাইয়ে দুই লাখ নিয়োগের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। তবে দেশটিতে বেকারত্বের হার কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর এপি।
কর্মপ্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে জুনে ১ লাখ ৮৫ হাজার চাকরি যুক্ত হয়েছে। ফলে জুলাইয়ের বৃদ্ধি জুনের তুলনায় বেশি। সবকিছুর পরও গত মাসে নিয়োগের পরিমাণ ছিল আশাব্যঞ্জক। ২০২২ সালের মার্চের পর গত মাসে ১১ বারের মতো বাড়ানো হয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সুদের হার। জুনের কর্মপ্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক স্বাগত জানায়। চলতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর জিপরিক্রুটার ওয়েবসাইটের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুলিয়া পুলাক দাবি করেছেন, প্রতিবেদন শক্তিশালী অবস্থা প্রকাশ করছে। ভীতির কারণ হলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভীতি, চাকরি সংখ্যা হ্রাস। দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আশঙ্কা এখনো বিদ্যমান।
যদিও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে স্থির থাকবে। বর্তমানে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা প্রায় অর্ধশতকের মধ্যে সর্বনিম্নে। সর্বনিম্ন বেকারত্বের হার ছিল ১৯৬৯ সালে। চাকরির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টার গড় আয় বেড়েছে। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় আয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ এবং গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ছিল যথাক্রমে দশমিক ৩ ও ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই পূর্বাভাসের চেয়ে বেড়েছে আয়।
জুলাইয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ৬৩ হাজার চাকরি যুক্ত করেছে। কিন্তু কারখানাগুলোয় ছাঁটাই হয়েছে দুই হাজার চাকরি, অস্থায়ী চাকরি সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার। রেস্তোরাঁ ও বারের মতো ব্যবসাগুলোয় নিয়োগ বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য খাতে মজুরির সংখ্যায় নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। কভিড মহামারীর সময় একজন নার্সকে গড়ে ১০০ ডলার দেয়া হতো প্রতি ঘণ্টায়। কিন্তু এখন কোনো হাসপাতালই আর ঘণ্টায় ১০০ ডলার দিচ্ছে না। বরং মজুরি নেমে এসেছে ৭৫ ডলার থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে।
মার্কিন চাকরি বাজারের পরিস্থিতি গতি হারাচ্ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। জুনে নতুন চাকরি সৃষ্টির সংখ্যা ছিল দুই বছরে সর্বনিম্ন। মানুষের চাকরি ত্যাগের অর্থ তারা তুলনামূলক ভালো কোনো কিছুতে যুক্ত হচ্ছে। জুনের পরিসংখ্যানে এ হারেরও পতন ঘটেছে। ফেড চাকরি ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা চায়। কর্মীদের জন্য বেশি চাহিদা তৈরি হলে মজুরি বাড়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যার খরচ পোহাতে প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে। এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মী সংকটে রয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারে জুনে বেকারত্ব ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দেশের বেকারত্বের হারে সর্বনিম্ন। একই সারিতে রয়েছে সাউথ ডেকোটা। শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নেমে এসেছে ছয় মাসের সর্বনিম্নে।
শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ২৫-৬৪ বছরের মধ্যে, যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশে। পার্টটাইম চাকরির সংখ্যা দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে ঠেকেছে। মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ফেডের পূর্বাভাস অনুসারে, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দ্বিগুণ।
চাকরি বাজার নিয়ন্ত্রণে এটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।










