হংকংয়ে চালু হয়েছে সিটিগ্রুপের প্রথম বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। মার্কিন বহুজাতিক এ বিনিয়োগ ব্যাংকটির ব্যক্তিগত ব্যাংকিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনন্দ সেলভাকেসারি বলেন, হংকংয়ে সিটিগ্রুপ নতুন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র চালু করেছে। তিনিসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার হংকং মনিটারিং অথরিটি আয়োজিত গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল লিডারস ইনভেস্টমেন্ট সামিটে অংশ নেন। এটি অন্যতম বড় আর্থিক ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত।
আনন্দ বলেন, আমি ফোর সিজনস হোটেলে অবস্থান করছি। রোববার হোটেলে প্রবেশের পথে দেখি আইএফসি মল লোকে লোকারণ্য। লোকেরা মাস্ক পরে আছে তবে রেস্তোরাঁগুলো পূর্ণ এবং প্রচুর লোক কেনাকাটা করছে। মহামারীর মধ্যে আমরা বিশ্বব্যাপী নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা বন্ধ করিনি। তবে ভৌত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ছিল চ্যালেঞ্জিং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, যেহেতু কভিড মহামারী শেষ হয়েছে, আমরা তাই ভৌত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করতে পারি। হংকংয়ে গ্লোবাল ওয়েলথ সেন্টারের মতো একটি পরিকাঠামো পেয়ে আমরা খুব গর্বিত।
হংকংয়ে গ্লোবাল ওয়েলথ সেন্টার চালুর পরিকল্পনাটি করা হয় গত বছর। যার লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ার নতুন ধনী গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫ হাজার কোটি ডলার অর্থ তুলে নেয়া।
হংকং ও সিঙ্গাপুরকে এশিয়ায় মূল বাজার মনে করে সিটিগ্রুপ। তাছাড়া তাদের বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ের ৩৪ শতাংশই আসে এ অঞ্চল থেকে। ২০২১ সালে এখান থেকে সিটিগ্রুপের আয় হয়েছিল ৭৫০ কোটি ডলার। এমনকি মহামারীর মধ্যেও ব্যাংকটি প্রায় ১৪ হাজার নতুন ধনী গ্রাহক আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
এ সম্পর্কে এশিয়ার সিটি গ্লোবাল ওয়েলথের প্রধান অ্যাঞ্জেল এনজি বলেন, সিঙ্গাপুরকে বলা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সম্পদের প্রবেশদ্বার। আর হংকং হলো উত্তর এশিয়ার সব সম্পদের প্রবেশদ্বার, বিশেষ করে চীন।
সিটিগ্রুপের প্রতিদ্বন্দ্বী এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকও হংকংয়ের একই জায়গায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র খুলেছে। কারণ ব্যাংকগুলো বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী গ্রাহকদের একটি বড় অংশকে আকর্ষণ করতে চায়। হংকং সরকারের তথ্য অনুসারে, চীনে প্রায় ৮০ হাজার অতি উচ্চ ধনী পরিবার রয়েছে।










