চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম হয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২০০ ডলার। মন্দার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে মূল্যবান এ ধাতুর দাম। খবর রয়টার্স।

গতকাল এশিয়ার বাজারে প্রথম দিকের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা আগের দিনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এদিন সিঙ্গাপুরে সকালে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২১৫ ডলার ৭৩ সেন্টে দাঁড়ায়, যা সাপ্তাহিক হিসাবে প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২১৩ ডলার ৪০ সেন্টে।

চলতি সপ্তাহে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিষয়ে অনিশ্চিত বার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতিগত দ্বিধা এবং অস্থিরতার ফলে মার্কিন স্টক ও বন্ড মার্কেটে অস্বাভাবিক বিক্রি শুরু হয়েছে, এমনকি ডলারের বিনিময় হারও পতনের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা, যা ওয়াল স্ট্রিটসহ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

৯০ দিনের শুল্ক স্থগিতের পরও ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। চীনা আমদানির ওপর শুল্ক দাঁড়িয়েছে ১৪৫ শতাংশে। তবে হোয়াইট হাউজের জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট বলেন, ‘অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে।’ যদিও বাণিজ্য আলোচনা সময়মতো শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ফলে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি বেড়েছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, বাণিজ্য অস্থিরতার প্রভাবে অস্থিতিশীল অন্যান্য ধাতুর দামও। গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩১ ডলার ২১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯৩৫ ডলার ৪২ সেন্ট হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯১৩ ডলার ২৮ সেন্ট হয়েছে।