নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ থেকে বেরিয়ে আসতে না আসতেই আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। সব মিলিয়ে বেশ বড়সড় ধাক্কার মধ্যে পড়েছে সারা বিশ্ব। ভারতও এর বাইরে নয়। বৈশ্বিক টালমাটাল এ পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশটিও বেশ উত্থান-পতনের মধ্যে পড়েছে। তারই চিত্র দেখা যাচ্ছে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে। 

অর্থনীতিবিদদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলক ধীর থাকবে। বিশ্বব্যাপী মন্দার মধ্যে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বেশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে রয়টার্সের জরিপে উঠে এসেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। যদিও সম্প্রতি দেশটিতে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।

অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় ভারতে  প্রত্যাশিত বিস্তার কিছুটা দ্রুতই হবে, তবে তা দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় কম থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে স্থির হবে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ৪৫ জন অর্থনীতিবিদের ওপর ১০-১৯ এপ্রিল  জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এবার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও মাত্রাটা আগের মাসের পূর্বাভাস থেকে বেশ বিস্তৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপের সব অংশগ্রহণকারীই চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য মন্থর হওয়ার পূর্বাভাস জানিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আশাবাদী পূর্বাভাস হচ্ছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ আর সবচেয়ে দুর্বলটা হচ্ছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।  

সোসিয়েট জেনারেলের ভারতীয় অর্থনীতিবিদ কুনাল কুণ্ডু বলেন, ‘‌মহামারীর কারণে তীব্র সংকোচন পেরিয়ে ২০২৪ অর্থবছরেও ভারতের প্রকৃত জিডিপি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস দেশীয় চাহিদা শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন জোগাবে, কিন্তু তা প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিতে সাহায্য করবে না। এ সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসার মূলধন বিনিয়োগ কিছুটা দমেই থাকবে।’

গত মাসের পর রিজার্ভ ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধিও চলতি বছরের প্রবৃদ্ধিতে বেশ প্রভাব ফেলবে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৫০ বেসিস পয়েন্টে সুদহার বাড়িয়েছে এবং সেটা এখন দীর্ঘসময় স্থির থাকবে, অন্তত বছরের শেষ নাগাদ তো বটেই। যদিও দেশটির মূল্যস্ফীতি আরবিআইয়ের প্রত্যাশিত ৪ শতাংশের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। 

রয়টার্সের জরিপ বলছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে স্থির থাকবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা ৫ দশমিক ২ শতাংশের  চেয়ে বেশি।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১৮-১৯ জনের মধ্যে প্রায় সবাই বলেছেন, চলতি বছর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসের ঝুঁকি ছিল, হয়তো তা বর্তমান আশঙ্কার থেকেও বেশি হবে। এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট সাক্সি গুপ্ত বলেন, আরবিআইয়ের পূর্বাভাসে বলা ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের থেকে তেলের দাম বেশি হবে বলে আমাদের সন্দেহ এবং তাতেই মূল্যস্ফীতির বেশ চাপ তৈরি হবে।