যুক্তরাষ্ট্রে মূলত স্পঞ্জ কেক আর নুডলস তৈরিতে ব্যবহার করা হয় সাদা গম থেকে তৈরি ময়দা। মূলত বেকিং শিল্পের সঙ্গে জড়িতরাই ছিল এ গমের প্রধান ক্রেতা। তবে এবার চীনে সাদা গমের নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। সেখানে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে এটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পশুখাদ্য হিসেবে প্রচুর পরিমাণে সাদা গম কিনছে চীন। তাই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন মার্কিন গমচাষীরা। খবর রয়টার্স।

বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি পরিমাণ শস্য আর তেলবীজ কিনছে চীন যে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারেই বেড়ে গেছে এসব পণ্যের দাম।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সাদা গমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ফিলিপাইন। এবার তাদের পেছনে ফেলেছে চীন। দীর্ঘদিন ধরেই চীনের ময়দা কারখানা ও বেকিং শিল্পে জড়িতদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার চীনের বাজার তারা ধরেছে ঠিকই, তবে সেটি বেকারি পণ্যের জন্য গম সরবরাহ করতে নয়, বরং পশুখাদ্য হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে গম রফতানি হবে বলে আশা করছে তারা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৪৫ মিলিয়ন বুশেল সাদা গম চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি করবে দেশটি।

বিপুল পরিমাণ গম রফতানির বিষয়টিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তরণের চিহ্ন হিসেবে দেখছে ইউএসডিএ। কারণ মন্দার কারণে পশ্চিমা বেশকিছু দেশে গম রফতানির পরিমাণ কমে গিয়েছিল। চীনে হঠাৎ এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, হঠাৎ করে এত সাদা গমের কেন প্রয়োজন হলো চীনের? দেশটির জ্যেষ্ঠ শস্য গবেষক লি হংচাও জানান, আগে চীনে পশুখাদ্য হিসেবে বেশি ব্যবহূত হতো ভুট্টা। কিন্তু এবার ভুট্টার দাম অনেক বেড়ে গেছে। আবার চীনে যে ভুট্টা উৎপাদন হয় তা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করে রফতানি করা লাভজনক। আর তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক সুলভে সাদা গম কিনছে চীন।

শূকর পালনের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম ছিল চীন। কিন্তু ২০১৮ সালে আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার রোগ এসে সেই বাজারটি নষ্ট করে দেয়। এখন আবারো সেই বাজারটি ধরতে চায় চীন। আর তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পশুখাদ্য সংরক্ষণ করছে দেশটি।

এতদিন অস্ট্রেলিয়াই ছিল চীনে গমের মূল আমদানিকারক। তাদের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বিরোধ দেখা দেয়ায় সেখান থেকে এবার আর গম আমদানি করছে না তারা। ফলে বিকল্প বাজার খুঁজতেই যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকেছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের এ বিরোধ লাভজনক হয়েছে মার্কিন গমচাষী ও ব্যবসায়ীদের জন্য।

আইদাহো রাজ্যের চাষী করডেল ক্রেস রয়টার্সকে বলেন, ২০২১ সালে যে পরিমাণ সাদা গম বিক্রি করতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ২০২২ সালের ফসল, যা এখনো চাষও হয়নি তার অনেকটুকু আগে থেকেই কিনে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। এমন সাধারণত হয় না জানিয়ে এ চাষী বলেন, তারা বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন।

অবশ্য আরো আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কিনছে চীন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ২৮ হাজার টন ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ লাখ ৭ হাজার টন সাদা গম কিনেছিল চীন।