সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) জিরা আমদানি ব্যাপক কমেছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, আমদানি কমার মূল কারণ চাহিদার তুলনায় ভারতের সরবরাহ কমে যাওয়া। গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের তুলনায় এবার ৫০ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে।

এদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে জিরার দাম লাফিয়ে  লাফিয়ে বেড়েছে। দেড়-দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি জিরা ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বন্দরটি দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৬৭০ টন। যার আমদানি মূল্য ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয় ৩ হাজার ১১৭ টন জিরা। যার আমদানি মূল্য ছিল ৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে মসলা পণ্যটির আমদানি কমেছে ১ হাজার ৪৪৭ টন।

ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান বণিক বার্তাকে জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছর ভারতে জিরার সরবরাহ অপ্রতুল। ফলে তার প্রতিষ্ঠান পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে ব্যয়ও হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। 

তিনি বলেন, ‘‌গত বছর এ সময়ে সপ্তাহে ৮-১০ ট্রাক জিরা আমদানি হয়েছে। বর্তমানে আমদানি হচ্ছে সপ্তাহে ৩-৪ ট্রাক। গত অর্থবছরের তুলনায় আমদানি অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে।’

সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের মসলা ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে আমদানীকৃত ভারতীয় জিরার দাম বেড়েছে ব্যাপক হারে। দেড় থেকে দুই মাস আগেও যে ভারতীয় জিরা ৪৪০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন, তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৪০-৬৫০ টাকা কেজি দরে। দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি জিরার দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান জিরা আমদানি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‌মসলা পণ্য হিসেবে জিরা আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আসে উল্লেখযোগ্য হারে। পণ্যটির আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও কমেছে।’