দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নতুন করে এলসি খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে শুল্ক পরিশোধসহ ইন্টারনেটভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটে পাইকারিতে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল হিলি স্থলবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রের দেয়া তথ্যমতে, হিলিতে রোববার প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫-৮৬ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে ৩-৪ টাকা বেড়ে গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮৮-৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে হিলির কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক নেই। এ বন্দর দিয়ে বর্তমানে শুধু কাঁচাপণ্য আমদানি হচ্ছে। ইন্টারনেট না থাকায় কাস্টমসে সার্ভার নেই। ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং কার্যক্রমও বন্ধ। আমদানীকৃত পণ্যের কোয়ারেন্টাইন সনদ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ও বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘শুল্ক, বিল অব এন্ট্রিসহ আমদানির অন্যান্য কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদন হয়। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেট না থাকায় কাস্টমসের সার্ভারে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচাপণ্যের বেলায় পণ্যের পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য পণ্য আমদানিতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তাই আমদানি-রফতানি ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি ও রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইন্টারনেট না থাকায় ব্যাংকগুলোয় এলসি খুলতে পারছি না। সার্ভার সচল নেই। ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে দেশে অন্য কোথাও থেকে টাকা আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি শুল্কও পরিশোধ করা যাচ্ছে না। আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে অন্যান্য জায়গায় পণ্য সরবরাহে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবস্থা খুব দ্রুত চালু করা উচিত। আরো কিছুদিন বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। যাদের পুরনো এলসি খোলা রয়েছে এবং যাদের ক্যাশ টাকা মজুদ রয়েছে, শুধু তারাই আমদানি করতে পারছেন। আমদানি কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘কারফিউ চলমান থাকলেও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলু আমদানি হচ্ছে। কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসনিক নিরাপত্তায় আমদানীকৃত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।’
এদিকে হিলি স্থলবন্দর সূত্র জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ভারতীয় ট্রাক বন্দরে আটকে পড়ে পণ্যজট তৈরি হচ্ছে।










