লাগামহীন হয়ে উঠছে দুগ্ধপণ্যের দাম। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে প্রস্তাবিত প্রতিটি পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে সাত বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ (এসএমপি) ও চেডার পনিরের দাম।
তথ্য বলছে, সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রস্তাবিত সবগুলো পণ্যের মধ্যে মাখনের মূল্যসূচকে বড় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। পণ্যটির গড় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি টন ৫ হাজার ৫৩৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
শুধু মূল্যসূচকই নয়, বরং দুগ্ধপণ্য সরবরাহ ও বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ৩০ হাজার টন ছাড়িয়েছে সরবরাহ। নিলামে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৪৯২ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯৭ টন। দুগ্ধপণ্যের গড় দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ২৮৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
নিলামে চেডার পনিরের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ১৬২ ডলারে। আগের নিলামে পণ্যটির দাম ১৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এনজেডএক্স ডেইরি ইনসাইট ম্যানেজার স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, আগামী দুই সরবরাহ মৌসুমে চেডার পনিরের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে মরিয়া ক্রেতারা। এ কারণে বেশি দামেই পণ্যটি ক্রয় করছেন তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় সংকুচিত সরবরাহ ক্রেতাদের বেশি দামে মাখন ও চেডার পনির ক্রয়ে বাধ্য করছে বলেও জানান তিনি।
খামারিরা ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি) থেকে সবচেয়ে বেশি এবং সরাসরি লাভবান হন। পণ্যটির দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৭ ডলারে। তবে চলতি বছরের মার্চে পণ্যটির দাম ৪ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছিল। ডেভিসন বলছেন, ক্রেতারা এখনো পণ্যটির সরবরাহ নিশ্চিতে আগ্রহী। সর্বশেষ নিলামের মূল্যসূচক বৃদ্ধি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম চমকপ্রদভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৬৭৬ ডলারে উন্নীত হয়।
চলতি মৌসুমে চীনে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা গত বছরের তুলনায় শক্তিশালী রয়েছে। সর্বশেষ নিলামেও দেশটি থেকে ক্রয়ের পরিমাণ ছিল বেশি। বিপরীতে নিউজিল্যান্ডে দুধ উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে বিষয়গুলো প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। বাজারে দুগ্ধপণ্যের সরবরাহ কম। কিন্তু এর মধ্যেই চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ফন্টেরা গ্রুপ খামারিদের মিল্ক পেমেন্ট পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
প্রতি মাসে দুবার দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। সর্বশেষ নিলামে ১৭৫ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিলামে অংশ নেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন ১২৩ জন।
ডেভিসন বলেন, চলতি মাসের প্রথম নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক আট মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছে। তবে সর্বশেষ নিলামে কিছু পণ্যের দাম সাত বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে।
সবশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আধিপত্য করেছে উত্তর এশিয়ার ক্রেতারা। বিক্রি হওয়া মোট দুগ্ধপণ্যের অর্ধেকই কিনেছেন তারা। ডব্লিউএমপি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল উত্তর এশিয়ার দেশগুলো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের ক্রেতারাও ভালো অবস্থানে ছিলেন। তবে তারা আগের নিলামের তুলনায় কম ডব্লিউএমপি ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছেন।










