টানা আট নিলামে দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম নিলামে সূচকমান কমেছিল ১ শতাংশ। সর্বশেষ নিলামে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ ছাড়া (ডব্লিউএমপি) সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তবে ল্যাকটোজের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে প্রতি মাসে দুবার নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ এ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। গত মঙ্গলবার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, এ নিলামে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার ৮৫৫ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৫৪৩ টন। নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৮২৭ ডলার। এবারের নিলামে ১৮০ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১৬ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।

এনজেডএক্সের দুগ্ধপণ্যবিষয়ক বিশ্লেষক স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, সর্বশেষ নিলামে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ (এসএমপি) এবং ক্রিমজাতীয় দুগ্ধ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে বেড়েছে। চেডার পনিরের দামও বেড়েছে। গত নিলামের মতো এ নিলামেও ডব্লিউএমপির দরপতন অব্যাহত ছিল। তবে সর্বশেষ নিলামে ল্যাকটোজের দামে কোনো উত্থান-পতন লক্ষ করা যায়নি।

জিডিটি নিলামে প্রভাবশালী পণ্য ডব্লিউএমপি। পণ্যটি থেকে সরসরি লাভবান হন খামারিরা। জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, ডব্লিউএমপির দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন ডব্লিউএমপির গড় দাম উঠেছে ৩ হাজার ৫৫২ ডলার পর্যন্ত। গত নিলামে দুগ্ধপণ্যটির দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। এদিকে শুধু আগের নিলামের তুলনায় নয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে।

ডেভিসন বলেন, টানা নিলামে দরপতনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল ডব্লিউএমপি। তবে বাজারে পণ্যটির দরপতনের গতি কিছুটা কমেছে। নিকট ভবিষ্যতে ডব্লিউএমপির দাম বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।

সর্বশেষ নিলামে ডব্লিউএমপির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল উত্তর এশিয়ার দেশগুলো। তবে এ অঞ্চলের ক্রেতারা আগের নিলাম এবং গত বছরের একই নিলামের তুলনায় কম ডব্লিউএমপি কিনেছেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোও ডব্লিউএমপি ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ডেভিসন বলেন, বিশ্বজুড়ে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছেন।  জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, সর্বশেষ নিলামে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় দাম উঠেছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২ ডলারে। মাখনের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনে গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭১ ডলারে। তবে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ নিলামে প্রস্তাব করা হয়নি। চেডার পনিরের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় দাম উঠেছে ৪ হাজার ১৮৪ ডলার পর্যন্ত। আগের নিলামের মতো এ নিলামেও প্রতি টন ল্যাকটোজের গড় দাম ছিল ১ হাজার ৯৭ ডলার।