২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন রূপে সেজেছিল কাতার। এ ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে ভালো আয়ও করেছে দেশটি। কিন্তু এ মহা আয়োজন শেষে দেশটির আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী। মূলত চাহিদার তুলনায় আবাসিক ভবনের পরিমাণ বেশি থাকায় ভাড়া ও বাড়ির দাম প্রতিনিয়ত কমছে। সম্প্রতি নতুন এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় পার্টনারের গবেষণা পরিচালনাকারী প্রধান ফয়সাল দুরানি বলেন, ‘চাহিদা ও সরবরাহ সংকট, ক্রমবর্ধমান সুদহার ও ক্রয়সক্ষমতার তারতম্য মর্টগেজের বাজারকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি বাড়ি বিক্রির পরিমাণও কমিয়ে দিচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পারতপক্ষে এক বছরে আবাসন খাতে বিক্রি ৩৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে এ খাতের লেনদেন ২৪ শতাংশের মতো কমেছে।’ দ্য নাইট ফ্র্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, লুসাইল ওয়াটারফ্রন্ট ও ফক্স হিল ডিস্ট্রিক্ট দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবনমনের শিকার হয়েছে। এর পরিমাণ যথাক্রমে ২৩ ও ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, দোহা ও আল রায়ান মিউনিসিপ্যালিটিস বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবাসন খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে।
দুরানি জানান, ভাড়ার হার কমায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাড়ি বা জমির মালিকদের ওপর আরো চাপ তৈরি হবে। কেননা চলতি বছরে কাতার ডেসটিনেশন প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাতারের উচ্চবিত্তরা আবাসিক ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে লুসাইলকে প্রাধান্য দেয় এবং এ অঞ্চলে বাড়ি ক্রয়ের গড় ব্যয় ১৮ লাখ ডলার।
দুরানি বলেন, ’৭১ শতাংশ অধিবাসী লুসাইলে বাড়ি কিনেছে। এছাড়া লুসাইল ম্যারিনা ও লুসাইল ওয়াটারফ্রন্ট আবাসিক ভবন বা ফ্ল্যাট কেনার দিক থেকে অধিবাসীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।’
২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কাতারে আবাসিক ভবনের একক ভাড়ার ইয়েল্ড গড় ছিল ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যাপার্টমেন্টের গড় ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২-এর সময় দেশটির সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। আবাসনের সমস্যা সমাধানে সে সময় একটি ফ্যান ভিলেজ তৈরি করেছিল কাতার। বিমানবন্দরের পাশেই গড়ে তোলা এ গ্রামে ছয় হাজার কেবিন ছিল। বিশ্বকাপ মৌসুমে ভক্তরা এসব কেবিনে অবস্থান করেছেন।
৩ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি করা এ সাইটে একটি মেট্রো স্টেশন, একটি বাসস্টপ, একটি অস্থায়ী পরিকল্পিত রেস্তোরাঁ এবং কিছু জরুরি জিনিসপত্রের খুচরা দোকানও ছিল। প্রতিটি কেবিনে এক রাত থাকার জন্য ২০০-২৭০ ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি ফর দ্য টুর্নামেন্টের হেড অব অ্যাকোমডেশন ওমর আল জাবেরের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামটি তৈরির পর পরই ৬০ শতাংশ কেবিন বুকিং হয়ে গিয়েছিল, যা এ সাইটের বাইরে দোহা ও হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেও বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে প্রতি রাতে ৮০ ডলার ব্যয়ে থাকা গেছে।
বিশ্বকাপ মৌসুম শেষ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে পর্যটক ও দর্শক নেই বললেই চলে। বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করায় বর্তমানে সেগুলো অতিরিক্ত হিসেবে পতিত অবস্থায়। যে কারণে দেশটির আবাসন খাত প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে।










