ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর পাহাড়ি জেলা নীলগিরি। চা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য এ জেলার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। দক্ষিণের একক জেলা হিসেবে নীলগিরিতে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে পাহাড়ঘেরা এ জেলায় পানীয় পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশের বেশি কমে ১০ লাখ কেজির নিচে নেমে এসেছে। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী প্রতিরোধে ভারতজুড়ে চলমান টানা লকডাউন এ সময় নীলগিরিতে চায়ের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন।
টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে নীলগিরিতে সব মিলিয়ে ৯ লাখ ৭০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে এ জেলায় সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে নীলগিরিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন কমেছে ২ লাখ ৯০ হাজার কেজি।
শুধু আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নয়, বরং গত পাঁচ বছরে এপ্রিল মাসে গড় উৎপাদনের তুলনায় এবার নীলগিরিতে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম চা উৎপাদন হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এপ্রিল মাসে এ জেলায় গড়ে ১৪ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চের শেষ দিকে লকডাউন ঘোষণার পর শ্রমিক সংকটে নীলগিরিতে চা পাতা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ রাখা হয় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এর পরও এখনকার কারখানাগুলো সক্ষমতার পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারেনি। এখনো শ্রমিক সংকট রয়েছে। এসব কারণে গত মাসে নীলগিরিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদনে ধস নেমেছে।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) নীলগিরিতে সব মিলিয়ে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম চার মাসে এ জেলায় ৪১ লাখ ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।










