২০২২ সালকে রূপান্তরের বছর হিসেবে উল্লেখ করেছিল সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ক্রেডিট সুইস। বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে ব্যয় সংকোচন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে অগ্রসরের কথা জানিয়েছিল ব্যাংকটি। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে কর্মীবাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে আনার কথাও শোনা যায়। সম্প্রতি সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে এশিয়ায় জ্যেষ্ঠ কর্মীদের সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে ব্যাংকটি। তাদের মধ্যে তিনজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও অর্থায়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী প্রায় নয় হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ক্রেডিট সুইস ছেড়ে দেয়া ব্যাংকারদের মধ্যে রয়েছেন জনসন চুই। তিনি এশিয়া-প্যাসিফিকের ইকুইটি ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন। আরো রয়েছেন ফাইন্যান্সিং বিভাগের কারেন ইয়াপ ও রেটিং অ্যাডভাইজরির প্রধান ই-লিন ট্যান।
ক্রেডিট সুইস ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অর্থায়ন বিভাগে কর্মরত লেনদেন কার্যক্রমের প্রধান কুভেশ পথের। এছাড়া কাজ হারানোর মধ্যে একই বিভাগের সিঙ্গাপুরভিত্তিক অন্তত দুজন ব্যাংকার এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের দুজন পরিচালক রয়েছেন।
এদিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্রেডিট সুইসের সিঙ্গাপুরভিত্তিক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাছাড়া তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কুভেশ পাথর তাদের কাছে প্রেরিত বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।
ক্রেডিট সুইস মোট খরচ থেকে ৩৬০ কোটি ডলার (২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ফ্রাঁ) সাশ্রয় করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চতুর্থ প্রান্তিকে ২ হাজার ৭০০টি পদে কর্মরতদের ছাঁটাই করা শুরু হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় নয় হাজার পদ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এশিয়ার কর্মী ছাঁটাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয় চীনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তি সম্পাদনের পর। এ অঞ্চলের অন্যান্য বাজারে লোকসানের সম্মুখীন হলেও চীন থেকে মুনাফা বৃদ্ধির আশা করছে ব্যাংকটি।
তবে ক্রেডিট সুইসের দক্ষিণ এশিয়ার প্রাইভেট ব্যাংকিংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ভিক বালিও পদত্যাগ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদের মতো তিনিও অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত মাসে ক্রেডিট সুইস সতর্ক করে বলেছিল, সংস্কার কার্যক্রম সংক্রান্ত খরচের কারণে সম্ভবত চলতি প্রান্তিকে টানা পঞ্চমবারের মতো লোকসানের রেকর্ড করতে যাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কার্যক্রম ঘিরে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। যার মধ্যে বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে পুনর্গঠন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বৃদ্ধির কৌশল অন্তর্ভুক্ত।










