উন্নয়নশীল এশীয় অঞ্চলে চলতি বছর প্রবৃদ্ধির সূচক গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ঘাটতি থাকার পরও ব্যয় ও বিনিয়োগের হার ছিল সন্তোষজনক। শক্তিশালী হয়েছে পর্যটন খাতও, যা জিডিপি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করেছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর রয়টার্স। 

উন্নয়নশীল এশিয়া বলতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যতীত প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৬টি দেশকে বোঝানো হয়। অঞ্চলটির মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তান থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের কুক আইল্যান্ডস অন্তর্ভুক্ত। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস হিসেবে এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এডিবি উন্নয়নশীল এশীয় অঞ্চলে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধির সূচক ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধার্য করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনসংক্রান্ত ঝুঁকি ও রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে আনা হয়েছে। 

এডিবির ঘোষণায় পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৫ ও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ স্থির করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জন্য অঞ্চল দুটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫ ও ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য পূর্বাভাস সংকুচিত করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বলে অনুমিত হচ্ছে। আগামী বছর তা ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এপ্রিলে ঘোষিত পূর্বাভাসে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রবৃদ্ধি ধার্য করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ ও ৫ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রফতানি কমে যাওয়ায় কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে প্রবৃদ্ধির সূচকে।

উন্নয়নশীল এশীয় অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কমে আসার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে চলতি বছরে। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারিত হলেও বর্তমানে তা ৩ দশমিক ৬-তে রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি আরো কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে ঠেকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমে এসেছে। সরবরাহ চেইনের বিশৃঙ্খলা কিছুটা সীমিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় সুদহার বাড়ানোর ফলাফল পড়তে শুরু করেছে অর্থনীতিতে।

মূলত মূল্যস্ফীতির কারণেই গৃহস্থালি ব্যয় সংকুচিত করে আনা হয়েছিল। দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠেছিল কঠিন। তবে ক্রমেই পরিস্থিতি মহামারীপূর্ব সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আশাব্যঞ্জক। এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চলতি বছর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ২ শতাংশে স্থির করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রতিবেদনে তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। 

এশিয়া অঞ্চলে পর্যটন খাত ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার গতি পাচ্ছে। এডিবির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‌যদি উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যাশিত সীমার চেয়ে দ্রুত মূল্যস্ফীতিকে নাগালে আনা যায়, তাহলে কর্তৃপক্ষ আরো কার্যকর অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করবে, যা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে জ্বালানির মূল্য বেড়ে গেছে। একই সময়ে এল নিনোর প্রভাবেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মূল্যের ওপর। তার ওপর রয়েছে সুদহারের প্রভাব। এডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‌উন্নয়নশীল এশীয় অঞ্চলের মূল্যস্ফীতি কম রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নীতি একটা বড় বিষয় ছিল বছরজুড়ে। তবে উন্নত দেশগুলোর বিপরীতে উদীয়মান এশীয় বাজারে শুভ লক্ষণই প্রকাশিত হচ্ছে।