নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল ধাতুর বাজার। তবে ফের দরপতনের মুখে পড়েছে অ্যালুমিনিয়ামের দাম। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) ব্যবহারিক ধাতুটির দাম কমতে কমতে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের দাম বর্তমানের তুলনায় আরো কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর মেটাল বুলেটিন ও বিজনেস রেকর্ডার।
বৈশ্বিক মহামারীতে বছরের শুরু থেকেই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে অ্যালুমিনিয়ামের দাম। এ ধারাবাহিকতায় গত ১৪ এপ্রিল এলএমইতে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়াম ১ হাজার ৪৫৬ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এরপর কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল ব্যবহারিক ধাতুটির দাম। ১৭ এপ্রিল ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১ হাজার ৪৮২ ডলার ৫৫ সেন্টে ওঠে। এক মাসের মধ্যে এটাই ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম।
এর পর থেকে অ্যালুমিনিয়ামের বাজার পরিস্থিতি ক্রমেই কমতির দিকে ছিল। মার্চের শেষ কার্যদিবসে ১ হাজার ৪৬০ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল প্রতি টন অ্যালুমিনিয়াম। আর এপ্রিলের প্রথম কার্যদিবসে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরো কমে ১ হাজার ৪৪০ ডলারে নেমে আসে।
এপ্রিলের শুরু থেকে এলএমইতে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম কিছুটা চাঙ্গা ছিল। ১১ এপ্রিল ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ওঠে ১ হাজার ৪৫৪ ডলার ৫০ সেন্টে। তবে এরপর ধাতুটির দাম শুধুই কমেছে। পরদিন ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম কমে ১ হাজার ৪৪৩ ডলারে নেমে আসে। আর সর্বশেষ কার্যদিবসে এলএমইতে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়াম বিক্রি হয় ১ হাজার ৪৩৩ ডলার ৫০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় টনপ্রতি ৫ ডলার ৫০ সেন্ট কম। এক মাসের মধ্যে এটাই এলএমইতে ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরু থেকে মহামারী অ্যালুমিনিয়ামের দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে চীনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় অ্যালুমিনিয়ামের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। এখন বিশ্বজুড়ে দীর্ঘসময় ধরে মহামারী পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা ব্যবহারিক ধাতুটির দাম ফের কমিয়ে দিয়েছে।










