দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে সংকোচন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এসে প্রথমবারের মতো সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল জানিয়েছে, দেশটির এই অর্থনৈতিক সংকুচিত পরিস্থিতির বড় কারণ রফতানি কমে যাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান সুরের হার বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় ভোক্তার ব্যয় কমানো। খবর এফএমটি। 

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব কোরিয়া’ জানিয়েছে, ‘গত বছরের একদম শেষ সময়ে এসে অর্থাৎ চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি এর আগের প্রান্তিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।’ 

জানুয়ারির শুরুতে সংস্থাটির করা হিসাবে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এর আগের ১৮ মাসে অন্তত ১০ বার ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। মূলত মূল্যস্ফীতি শ্লথে আর্থিক নীতিনির্ধারকদের সুযোগ করে দিতেই এই ঋণ সহায়তা দেয়া হয়। কারণ গত বছর নেয়া পদক্ষেপের প্রভাবের কথা চিন্তা করে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে চায়। 

তার পরও ব্যাংক অব কোরিয়ার প্রধান উদ্বেগের বিষয় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি, যা গত ডিসেম্বরে ৫ শতাংশে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গৃহস্থালি সামগ্রী, পোশাক, বাসস্থান, খাদ্য ও বিনোদনসহ পণ্য, পরিষেবা ব্যবহার কমিয়ে দেয়ার কারণে ব্যক্তিগত খরচ শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।’

প্রধানত সেমিকন্ডাক্টর ও রাসায়নিক পণ্যে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ রফতানি কমেছে বলে জানিয়েছে এ আর্থিক কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, মৌলিক ধাতু ও অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমায় শেষ প্রান্তিকে আমদানি কমেছে অন্তত ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তার পরও দেশটির অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরো বছরে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছে কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।