মধ্য এশিয়ার শীর্ষ গম উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশ কাজাখস্তান। সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির গম উৎপাদন খাত। খরার কারণে ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে সুখবর শুনিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কাজাখস্তানে এরই মধ্যে খরা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ফলে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে এবারের মৌসুমে দেশটিতে গম উৎপাদন আগের তুলনায় বাড়তে পারে। চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানিও। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও এগ্রিমানি।

গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় কাজাখস্তানের অবস্থান ১৩তম। তবে কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় দেশটি নবম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়াগত কারণে মান ভালো হওয়ায় কাজাখস্তানের গমের বিশ্বজুড়ে চাহিদা রয়েছে। ইউএসডিএর গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিএআইএন) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে কাজাখস্তানে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩৫ লাখ টন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মৌসুমে দেশটিতে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ টন গম উৎপাদন হয়েছিল। সেই হিসেবে এক মৌসুমের ব্যবধানে মধ্য এশিয়ার এ দেশে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে ২১ লাখ টন।

দেশটির গম উৎপাদন খাতের এ প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অনুকূল আবহাওয়া। ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন থেকে কাজাখস্তানের গমচাষীরা খরার সঙ্গে লড়ছেন। কৃষিপণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। গত শরৎ ও শীতে দেশটির কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোয় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাটির আর্দ্রতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এটা শীত শেষে দেশটিতে গমের আবাদ বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। মূলত এ কারণে এবারের মৌসুমে কাজাখস্তানে প্রত্যাশার তুলনায় বাড়তি গম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা পর্যাপ্ত থাকায় উৎপাদিত গমের মানও তুলনামূলক ভালো হবে।

উৎপাদন খাতের এ চাঙ্গা ভাব ২০২০-২১ মৌসুমে কাজাখস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের রফতানি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটি থেকে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন গম রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাচ্ছে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী। এর জের ধরে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও ময়দা রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কাজাখস্তান সরকার। দেশটির সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহামারী পরিস্থিতিতে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত গম মজুদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে আপাতত কৃষিপণ্যটির রফতানিতে লাগাম টানা হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে কিংবা আপত্কালীন মজুদ পর্যাপ্ত হলে গম ও ময়দার এ সাময়িক রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

এদিকে যব উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় কাজাখস্তানের অবস্থান অষ্টম। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি সপ্তম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। যব উৎপাদন ও রফতানি—দুটোতেই মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কাজাখস্তান শীর্ষে রয়েছে। ইউএসডিএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩৯ লাখ টন যব উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে কাজাখস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৮ লাখ টন যব রফতানি হতে পারে। কৃষিপণ্যটির উৎপাদন ও রফতানি—দুটোতেই এবারের মৌসুমে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখবে দেশটি।