ভারতের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জেএসডব্লিউ স্টিল। ভারতের বাইরে প্রায় ১৪০টি দেশে জেএসডব্লিউ স্টিলের ব্যবসা রয়েছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর জের ধরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সীমিত হয়ে এসেছে। কারণ ভারতজুড়ে চলমান টানা লকডাউন গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতে জেএসডব্লিউ স্টিলের কারখানাগুলোয় সাকল্যে ৫ লাখ ৬৩ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় সব মিলিয়ে ১৩ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে জেএসডব্লিউ স্টিলের কারখানায় শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার টন। লকডাউন চলমান থাকায় গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতার মাত্র ৩৮ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতজুড়ে টানা লকডাউন চলছে। ১৭ মে পর্যন্ত চলমান লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। লকডাউনের মাঝেই গত ২৫ মার্চ এক বিবৃতিতে ইস্পাত উৎপাদনে লাগাম টানার ঘোষণা দিয়েছিল জেএসডব্লিউ স্টিল। মূলত শ্রমিক সংকট ও শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত করে আনে প্রতিষ্ঠানটি। এর প্রভাব পড়েছে এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে। এ সময় শিল্প ধাতুটির উৎপাদন ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের অন্যতম এ ইস্পাত উৎপাদনকারী গ্রুপের যাত্রা ১৯৮২ সালে। মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি অপরিশোধিত ইস্পাত, ইস্পাত প্লেট, ইস্পাতজাত বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুত ও রফতানি করে। গত বছর জেএসডব্লিউ স্টিল সব মিলিয়ে ৮৪ হাজার ৭৫৭ কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) রাজস্ব আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ হাজারের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন।