কমতে পারে সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি। চলতি বছরের মে মাসে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমার পরিমাণ দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটাই দেশটি থেকে জ্বালানি তেল রফতানির সর্বোচ্চ পতন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাব ও বৈশ্বিক চুক্তির আওতায় উত্তোলন কমে আসার জের ধরে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রফতানিতে এ পতন দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় শুরুতেই রয়েছে সৌদি আরব। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে সৌদি আরব থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হতে পারে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম। প্রায় এক দশকের মধ্যে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির মাসভিত্তিক রফতানি আগে কখনই এতটা কমেনি।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে ধাক্কা খেয়েছে সৌদি আরবের রফতানি খাত। অনেকটাই স্থবির হয়ে এসেছে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কার্যক্রম। বাড়তে শুরু করেছে মজুদ। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলো প্রায় ভরে উঠেছে। পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতায় পূর্ণ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে উত্তোলনে লাগাম টানার পথে হাঁটছে সৌদি প্রশাসন।

একই সঙ্গে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের তুলনায় কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সৌদি আরব। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে আসছে। এটা দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমাতেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।