ভারতে ভোজ্যতেলের আমদানি ২০২৩-২৪ তেলবর্ষের (নভেম্বর-অক্টোবর) প্রথম আট মাসে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটি ১ কোটি ৯ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে, যা ২০২২-২৩ সালের একই সময়ে ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।
যদিও চলতি বছরের জুনে ১৫ লাখ ২০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের জুনে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ১০ হাজার টন।
সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসইএ) তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ তেলবর্ষের প্রথম আট মাসে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের আমদানি কমেছে। এসইএর নির্বাহী পরিচালক বিএম মেহতা জানান, উল্লিখিত সময়ে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সব ধরনের পাম অয়েলের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ লাখ টন কমে গেছে। ২০২২-২৩ তেলবর্ষে আমদানি ৬০ লাখ ৩০ হাজার টন কমে গিয়েছিল।
চলতি তেলবর্ষের নভেম্বর-জুন পর্যন্ত ভারত মোট ১৩ লাখ ৮০ হাজার টন পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করেছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৪ লাখ টন। একই সময় সয়াবিন তেল আমদানি ১৮ লাখ ৬০ হাজারে স্থির রয়েছে। তবে সূর্যমুখী তেলের আমদানি বেড়ে ২৪ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।
মেহতা জানান, ২০২৩-২৪ তেলবর্ষের প্রথম আট মাসে ভোজ্যতেলের মোট আমদানিতে পাম অয়েলের হিস্যা কমে ৫৭ শতাংশ নেমেছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে সূর্যমুখীসহ অন্য তেলের অংশ বেড়ে ৪৩ শতাংশ পৌঁছেছে।
ভারতে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে শীর্ষে আছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। ২০২৩-২৪ সালের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ভারতে ১৯ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত পাম অয়েল ও ১১ লাখ ৭০ হাজার টন পরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করেছে ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে একই সময় দেশটিতে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টন অপরিশোধিত পাম অয়েল ও ২০ হাজার টন পরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করেছে মালয়েশিয়া।
এর বাইরে আর্জেন্টিনা থেকে ১০ লাখ ৫ হাজার টন ও ব্রাজিল থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত (গামমুক্ত) সয়াবিন তেল আমদানি করে ভারত।
২০২৩-২৪ তেলবর্ষের প্রথম আট মাসে ভারতে ১১ লাখ ৭০ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল রফতানি করেছে রাশিয়া। এছাড়া রোমানিয়া ৬ লাখ টন, ইউক্রেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ও আর্জেন্টিনা ২ লাখ ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল রফতানি করেছে।
মেহতা জানান, এ বছরের বাজেটে কৃষি ও ভোজ্যতেলের ওপর দৃষ্টি দেয়া হবে বলে আমরা আশা করছি। একই সঙ্গে তেলবীজ উৎপাদন ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে পর্যাপ্ত আর্থিক তহবিলসহ একটি জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করা হবে, যাতে এ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমে আসে। এক্ষেত্রে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্কের পার্থক্য ৭ দশমিক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ওপর জোর দিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করেছে এসইএ। শুল্ক বাড়ানো হলে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিতে অনুৎসাহিত হবেন ব্যবসায়ীরা। ফলে দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধনের পরিমাণ বাড়বে।
অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিতে বর্তমান শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ ও পরিশোধিত ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্ক পর্যায়ক্রমে ৩৫ শতাংশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন মেহতা। এমন পদক্ষেপ নেয়া হলে দেশটির কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং তেলবীজের মোট উৎপাদন বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি। মেহতার মতে, এটি সম্ভব হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ খাতে ১৫-২০ শতাংশ আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে।










