বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আয়োজিত ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং কমিটির ১৩তম সভা সম্প্রতি বিল্ডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। তিনি জানান, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ও সিএমএসএমই মাস্টার সার্কুলারের সমন্বয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করা হবে।

ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, ‘সার্কুলারে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে ঠিক করা হবে। সিএমএসএমই খাতের বিকাশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ খাতে ২৭ শতাংশ ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতি প্রণয়নের সময় সব অংশীজনের সুবিধা বিবেচনায় রাখা হয়।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম। তিনি জানান, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ঋণ পেয়েছেন। তবে গড়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ গ্রহণ করেছেন মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৯ শতাংশ ট্রেডিং খাতের উদ্যোক্তারা পেয়েছেন। উৎপাদন খাত পেয়েছে ২৪ শতাংশ ঋণ। নারী উদ্যোক্তাদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘নতুন সিএমএসএমই ফাইন্যান্সিং মাস্টার সার্কুলারের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন, ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন বা পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। নতুন সার্কুলারে ২০১৯ সালের তুলনায় সব ক্যাটাগরিতে ঋণের সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন খাতের তুলনায় সেবা খাতকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এজেন্ট ও মাইক্রোফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন অনুমোদিত নতুন চ্যানেলের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের সুযোগ বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিম এসব ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।’

তিনি আরো বলেন, পিয়ার অর্থায়ন ও দলগত অর্থায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে। দলগত ঋণে কোনো সদস্য ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুরো গ্রুপের যোগ্যতা বাতিল হয়ে যায়। তিনি কিছু সুপারিশও দিয়েছেন, যেমন ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা, পিয়ার ও দলগত অর্থায়ন বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা, উৎপাদন খাতের ঋণসীমা বৃদ্ধি ও ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমকে মাস্টার সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এসব উদ্যোগ সিএমএসএমই খাতের ঋণপ্রাপ্তিকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করবে।

সভায় এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান প্রস্তাব দেন, ঋণ ব্যবস্থা ট্রেড ফাইন্যান্সের পরিবর্তে ক্যাশ ক্রেডিট বা ওভারড্রাফটের মতো করলে ওয়াকিং ক্যাপিটাল সহজলভ্য হবে ও ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে।

পিকেএসএফের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার বিভূতি ভূষণ বিশ্বাস বলেন, ‘ঋণ বিতরণে পিকেএসএফ যুক্ত হলে মাস্টার সার্কুলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুমন চন্দ্র সাহা জানান, তারা ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং ড্রাফট করেছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে ডেটাবেজ তৈরিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক মানছুরুল করিম বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকের প্লটে ১০ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব স্মল বিজনেস এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য বড় পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন। কিন্তু অন্যান্য সম্পত্তি কোল্যাটারাল হিসেবে গ্রহণের মানসিকতা তৈরি হয়নি। তাই এ খাতের জন্য বিশেষ ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা জরুরি।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, আরজেএসসি, বিভিন্ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তারা।

—বিজ্ঞপ্তি