লিবিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি দ্য ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) দেশটির একটি রফতানি টার্মিনালে ফোর্স মেজার জারি করায় তেল উত্তোলন ব্যাহত হয়। এতে এপ্রিলে দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় হ্রাস পায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির জ্বালানি তেল খাত থেকে প্রাপ্ত আয়ও কমে যায়। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।
মে মাসে প্রকাশিত ওপেকের জ্বালানি তেলের বাজারবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে (এমওএমআর) বলা হয়, এপ্রিলে লিবিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন মার্চের তুলনায় দৈনিক ৬৭ হাজার ব্যারেল করে কমে যায়। এপ্রিলে দেশটি দৈনিক ১১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। মার্চে উত্তোলন করা হয় দৈনিক ১১ লাখ ৯৭ হাজার ব্যারেল।
তেল উত্তোলন খনি সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে দেশটির বাজেটে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দের পারিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ দিতে দেরি হওয়ায় এনওসির অধীন তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যারাবিয়ান গালফ অয়েল কোম্পানি এপ্রিলের মাঝামাঝিতে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। ফলে ওই মাসের বেশ কয়েকদিন দেশটির জ্বালানি উত্তোলন দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমে যায়। অ্যারাবিয়ান গালফ অয়েল কোম্পানির অধীনে থাকা তেল খনিগুলো হলো সারির, মেসলা, আল-বায়দা নাফুরা ও হামাদা। এসব খনি থেকে প্রতিষ্ঠানটি সব মিলিয়ে দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করে।
এদিকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণার কয়েকদিন পরই নতুন বাধার সম্মুখীন হয় লিবিয়ার তেল উত্তোলন খাত। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল সংকটের কারণে হারিগা বন্দরে এনওসি ফোর্স মেজার জারি করে (এটি চুক্তির একটি সাধারণ ধারা, যা মূলত উভয় পক্ষকে দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়, যখন কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা বা পরিস্থিতি তৈরি হয়)। এতে এনওসির বেশ কয়েকটি খনিতে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
তবে রয়টার্সের এক হিসাব বলছে, মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়তে পারে। তবে এখনো উত্তোলিত জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি।










