ভূমির সীমাবদ্ধতা, পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মহামারীর প্রভাবসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় জর্জরিত ভারতের তুলা উৎপাদন খাত। তবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চলতি দশকে দেশটি শীর্ষস্থানীয় তুলা উৎপাদক দেশের তকমা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এগ্রিকালচারাল আউটলুক ২০২১-৩০ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তুলা উৎপাদনে ভারতের অংশীদারিত্ব থাকবে ২৫ শতাংশ। ২২ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করবে চীন। এছাড়া বৈশ্বিক উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ ও ব্রাজিল ১০ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। চলতি দশকের শেষ নাগাদ তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াবে ২ কোটি ৮৪ লাখ টনে। এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুলা ব্যবহার করবে চীন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। মোট বৈশ্বিক ব্যবহারের ৭৫ শতাংশই আসবে এশিয়ার এ পাঁচ দেশ থেকে। এসব দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে ২ কোটি ৮৩ লাখ টন তুলা ব্যবহার হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ দশকের শেষে বৈশ্বিক তুলা রফতানি এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ১০ লাখ টনেরও বেশি তুলা রফতানি করা হবে। উৎপাদনে ভারত শীর্ষ স্থান ধরে রাখলেও তুলা রফতানিতে দেশটি এ সময় পিছিয়ে পড়তে পারে। রফতানি বাজারে ভারতকে হটিয়ে শীর্ষ তৃতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে সাব-সাহারান আফ্রিকা। রফতানি বাজারে বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় থাকবে। দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখবে ব্রাজিল। এদিকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কাপড় আমদানিতে শীর্ষ স্থান ধরে রাখবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, চীন, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ভারতে তুলার উচ্চ ফলন হয়েছে। আগামী বছরগুলোতেও উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বিশ্বের বৃহৎ তুলা উৎপাদনকারী দেশের খেতাব ধরে রাখতে সক্ষম হবে। যদিও ভবিষ্যতে তুলা আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারতের তুলা উৎপাদন বেড়ে ৭২ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ বেলের (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) সমান। বর্তমানে দেশটি বছরে ৬০ লাখ টন তুলা উৎপাদন করে থাকে, যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বেলের সমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১-৩০ সাল পর্যন্ত তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়াতে ভারত ৪০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখবে।
এদিকে উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিললেও আগামী নয় বছর ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে ভারতের তুলা খাত। এর মধ্যে রয়েছে ভূমির সীমাবদ্ধতা, পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণসহ নানা রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে কয়েক বছর ধরেই অপরিশোধিত তুলার উৎপাদন অপরিবর্তিত রয়েছে। তুলনামূলকভাবে আবাদও নিম্নমুখী। ওইসিডি-এফএও আউটলুক বলছে, তুলা আবাদে যন্ত্রের ব্যবহার, উন্নত ও উচ্চফলনশীন জাতের উদ্ভাবন এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থাপনা বাড়িয়েছে ভারত। এটি ভবিষ্যতে আবাদ ও উৎপাদন বাড়ার ইংগিত দিচ্ছে।










